আনিছুর রহমান, বেনাপোল
স্থলবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও প্রতারণা বন্ধসহ উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার লক্ষে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পাসপোর্ট যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল উন্মুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষর পরিচালক (ট্রাফিক) (উপসচিব) মোঃ শামীম হোসেন। সভায় বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন পুলিশ, পরিবহন প্রতিনিধি, চেকপোষ্ট ব্যবসায়ি সমিতির প্রতিনিধি, এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয়। পাসপোর্ট যাত্রীদের দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে বা রোদে দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধ করতে অবিলম্বে টার্মিনালের মূল ভবন খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। যাত্রীরা যেন টার্মিনালের ভেতরে বসে সুশৃঙ্খলভাবে তাদের নথিপত্র (পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র) যাচাই করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বন্দরে সক্রিয় দালাল চক্র এবং অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার পরিধি বাড়ানো এবং সাদা পোশাকে নজরদারি বৃদ্ধির বিষয়ে একমত পোষণ করেন উপস্থিত সকলে। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম যেন দ্রুত সম্পন্ন হয়, সে জন্য জনবল বৃদ্ধি এবং বুথগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়। সভাপতির বক্তব্যে শামীম হোসেন বলেন,বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। এখানে কোনোভাবেই যাত্রী হয়রানি বরদাশত করা হবে না। যাত্রীদের সুবিধার্থে টার্মিনাল ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে এবং নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও সহজতর করা হবে। আমরা চাই একজন যাত্রী যেন স্বাচ্ছন্দ্যে দেশ ত্যাগ বা প্রবেশ করতে পারেন।” সাধারণ যাত্রী ও স্টেকহোল্ডারদের মতে, ভোর বেলায় টার্মিনাল খুলে দিলে পাসপোর্ট ও ভিসার কাগজ পরীক্ষার সময় যাত্রীরা হয়রানি থেকে রক্ষা পাবেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের কষ্টের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফজলে ওয়াহেদ, বেনাপোল কাস্টমস এর সহকারী কমিশনার অতুল গোস্বামী, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল হাই, শ্রমিক নেতা সহিদ আলী প্রমুখ।

