২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

যুদ্ধের সুযোগে ফের বেপরোয়া সোমালি জলদস্যুরা, একের পর এক জাহাজ ছিনতাই

প্রতিদিনের ডেস্ক:
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির সুযোগ নিতে শুরু করেছে সোমালি জলদস্যুরা। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরীয় এলাকায় আন্তর্জাতিক নজরদারি শিথিল হওয়ার সুযোগে তারা একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজ ছিনতাই করছে। সবশেষ ইয়েমেন উপকূল থেকে ‘এমটি ইউরেকা’ নামে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ছিনতাই করে সোমালিয়া উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।শনিবার (২ মে) ইয়েমেনের কোস্টগার্ড এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশের উপকূলে সশস্ত্র হামলাকারীরা ট্যাংকারটি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে জাহাজটি এডেন উপসাগর হয়ে সোমালিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জাহাজে থাকা নাবিকদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সোমালিয়া সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় এটি চতুর্থ ছিনতাইয়ের ঘটনা। এর আগে, গত ২১ এপ্রিল প্রায় ১৮ হাজার ব্যারেল তেলসহ একটি ট্যাংকার ছিনতাই করে সোমালি জলদস্যুরা। এর পরবর্তী পাঁচদিনের মধ্যে আরও দুটি জাহাজ তাদের কবলে পড়ে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে চলাচলের ওপর অবরোধ এবং রুট পরিবর্তনের কারণে নৌবাহিনীর টহল এখন নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নজরদারির এই ‘ফাঁক’ ব্যবহার করেই জলদস্যুরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নৌবাহিনী জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সোমালি উপকূলে জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি জলদস্যু গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি ‘সুযোগের জানালা’ খুলে দিয়েছে।যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) সোমালি উপকূলে জলদস্যুতার হুমকির মাত্রা ‘উল্লেখযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করেছে এবং এই পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।এক সময় সোমালিয়া উপকূল ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জলদস্যুপ্রবণ এলাকা। ২০১১ সালে সেখানে ২০০টির বেশি হামলার ঘটনা ঘটে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, সে সময় জলদস্যুতার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতো।পরে আন্তর্জাতিক নৌ জোটের তৎপরতায় ২০১৪ সালের মধ্যে এই ঝুঁকি প্রায় শূন্যে নেমে আসে। তবে ২০২৩ সাল থেকে আবারও জলদস্যু হামলা বাড়তে শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, হুথি গোষ্ঠীর হামলা মোকাবিলায় নৌ টহল লোহিত সাগরের দিকে সরিয়ে নেওয়াও এর একটি কারণ।বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জলদস্যু তৎপরতা আরও বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়