২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

সূচকে তিন ধাপ পেছাল বাংলাদেশ

স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও আমাদের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আজও অধরাই বলা যায়। বৈশ্বিক সূচকে তলানিতে পড়ে থাকে বাংলাদেশের নাম। কোনো সরকারের আমলেই এ ক্ষেত্রে গর্ব করার মতো উন্নতি দেখা যায়নি। এবার বৈশ্বিক সূচকে আরো তিন ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের (আরএসএফ) প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। এ বছর বাংলাদেশের অবস্থান ১৮০ দেশের মধ্যে গিয়ে ঠেকেছে ১৫২তে, গত বছর যা ছিল ১৪৯।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যম হলো চতুর্থ স্তম্ভ। দেশের মানুষের মতামত, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি—রাষ্ট্রের সার্বিক চিত্র ফুটে ওঠে এই গণমাধ্যমে। একটি দেশে গণমাধ্যম যদি স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে, এই প্রতিটি ক্ষেত্র অগোচরে থেকে যায়। বিভিন্ন দেশে দেখা যায়, কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো গণমাধ্যমের ওপর কঠোরনীতি আরোপ করে মূলত নিজেদের সাফল্য প্রচার ও ব্যর্থতা ঢাকার যন্ত্র হিসেবে। কিন্তু আখেরে এই কৌশল কাজে দেয় না, বরং ওই সব সরকারের সামনে স্বৈরাচার হওয়ার পথ উন্মুক্ত করে দেয়।
জানা গেছে, আরএসএফ একটি দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নির্ধারণে পাঁচটি বিষয় বিচেনায় নিয়ে থাকে—রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আইনি কাঠামো, অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক গতিশীলতা ও নিরাপত্তা।
এই বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে দেশগুলোকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ থেকে ‘ভালো’ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এ বছর বাংলাদেশকে অত্যন্ত গুরুতর শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ কাছের দেশ নেপাল বাংলাদেশ থেকে ৬৫ ধাপ এগিয়ে, শ্রীলঙ্কা ১৮ ধাপ এগিয়ে, যদিও ভারত ও পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে রয়েছে। আর শীর্ষে তিন দেশ হলো নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস ও এস্তোনিয়া। আরএসএফ বলছে, ২০০২ সালে সূচক চালু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় এত নাজুক পরিস্থিতি দেখা গেছে।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আরএসএফের ভাষ্য, দেশের প্রধান দুই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে কোনো সম্পাদকীয় স্বাধীনতা নেই। তারা মূলত সরকারি প্রচারযন্ত্র হিসেবে কাজ করে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের অবস্থাও একই। এ ছাড়া বর্তমানে প্রায় তিন হাজার সংবাদপত্র ও সাময়িকী, কিছু কমিউনিটি রেডিও, ৩০টি টেলিভিশন চ্যানেল ও কয়েক শ নিউজ পোর্টাল রয়েছে। এর মধ্যে নগণ্যসংখ্যক প্রতিষ্ঠান স্বাধীন সম্পাদকীয় নীতি বজায় রাখতে পারছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাঁরা ক্ষমতায় গেলে সংবামাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবেন। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত মাসেও তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। আমরা আশা করব, এই সরকারের আমলে দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়