২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

অস্ট্রেলিয়ান জাতের আঙ্গুর চাষে নজর কাড়ছেন খেদাপাড়ার আকবর আলী

উত্তম চক্রবর্তী, রাজগঞ্জ
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকার খেদাপাড়া ইউনিয়নের হেলাঞ্চি গ্রামের বাসিন্দা অস্ট্রেলিয়ান জাতের আঙুর চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মো. আকবর আলী। কৃষি কাজে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি এখন এলাকার একজন সফল ও আদর্শ চাষি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। উপজেলার হেলাঞ্চি গ্রামের বাসিন্দা আকবর আলী দীর্ঘ ২০ বছর বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে চাকরি শেষে অবসরে যান। ছোটবেলা থেকেই বিদেশি ফলের বাগান করার স্বপ্ন ছিল তার। চাকরির ব্যস্ততার কারণে সে স্বপ্ন পূরণ করতে না পারলেও অবসরের পর তিনি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নেমে পড়েন। নিজের ৪২ শতক জমিতে প্রায় তিন হাজার অস্ট্রেলিয়ান জাতের আঙুরের চারা রোপণ করেন তিনি। আঙুর চাষের জন্য আধুনিক মাচা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে সিমেন্টের খুঁটির ওপর বাঁশ ও বিশেষ সুতা দিয়ে জাল তৈরি করে গাছগুলোকে উপরে ওঠার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২ বিঘা জমিতে সবুজ লতায় ভরপুর আঙুর গাছে থোকায় থোকায় ফল ধরেছে, যা দেখতে প্রতিদিন এলাকাবাসীর ভিড় লেগেই থাকে। আকবর আলী জানান, গাছ লাগানোর মাত্র ১১ মাসের মধ্যেই তিনি ফলন পেয়েছেন। বর্তমানে ক্ষেত থেকেই প্রতি কেজি আঙুর ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি চারা ৩০০ টাকা দরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বাগানে যে পরিমাণ ফলন হয়েছে, তা বিক্রি করে সব খরচ উঠে যাবে এবং আমি লাভবান হবো বলে আশা করছি। আকবর আলীর এই সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় অনেক কৃষক এখন আঙুর চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অনেকেই তার বাগান পরিদর্শনে এসে চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন এবং নিজেরাও এই চাষ শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে আঙুর চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক পরিচর্যা, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আঙুর উৎপাদনে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। এতে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। আকবর আলীর সফলতা প্রমাণ করেছে পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবল থাকলে বাংলাদেশের মাটিতেও বিদেশি ফলের বাণিজ্যিক চাষ সম্ভব। তার এই উদ্যোগ বেকার যুবসমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়