৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

‘ছাত্রী উইং’ গঠনের উদ্যোগ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের

প্রতিদিনের ডেস্ক:
ছাত্রী উইং গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জানা গেছে, সাংগঠনিক বিস্তার ও নারী ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বৃদ্ধিতে নতুন এই ইউনিট শুরু করতে যাচ্ছে দলটি। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদুল আজহার পর এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। দলটির নেতারা মনে করছেন, নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা, ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নারী নেতৃত্ব তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের নারী শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।‘ছাত্রী উইং’ গঠনের খবরটি নিশ্চিত করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। জানতে চাইলে বুধবার সকালে মুঠোফোনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, হ্যাঁ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ছাত্রী উইং গঠনের উদ্যোগ অনেকটাই চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের ছাত্রদের উইংসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিট আগে থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ছাত্রীদের জন্যও আলাদা একটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।গাজী আতাউর আরও জানান, যেহেতু এটি ছাত্রীদের সাংগঠনিক ইউনিট, তাই প্রথমেই এর গঠনতন্ত্র কেমন হবে, কী ধরনের নীতিমালার ভিত্তিতে ইউনিটটি পরিচালিত হবে- তা নিয়ে দলীয় ফোরামে বিস্তর আলোচনা ও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সবকিছু সুসংগঠিতভাবে চূড়ান্ত করার পরই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবো।এই উইংয়ের কার্যক্রমের ফোকাস কোথায় থাকবে এবং এটি সারাদেশে একসঙ্গে বিস্তৃত করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে আমরা সারাদেশে একযোগে কার্যক্রম শুরু করতে চাইছি না। শুরুতে আমাদের মূল ফোকাস থাকবে ঢাকা। আমরা আগে ঢাকা থেকে কার্যক্রম শুরু করে শিক্ষার্থীদের সাড়া কেমন আসে, তা পর্যবেক্ষণ করব। এরপর সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এটি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বিস্তৃত করা হবে।এদিকে, এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এককভাবে অংশ নেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুরুতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যে ছিল দলটি, নির্বাচনের আগে তারা সেখান থেকে সরে আসে। নির্বাচনে দলটি মোট ভোটের ২ দশমিক ৭০ শতাংশ পায় এবং একটি আসনে জয়ী হয়।উল্লেখ্য, চরমোনাই পীর সৈয়দ ফজলুল করিমের হাতে ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামী আন্দোলনের কোনো নারী ইউনিট ছিল না। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গত বছরের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ৩৪ সদস্যের কেন্দ্রীয় মহিলা ইউনিট গঠন করে দলটি।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়