প্রতিদিনের ডেস্ক:
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পকে আরও টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চীনের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড বাংলাদেশ-চায়না গ্রিন টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং দারিদ্র্যবিমোচনে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। বাংলাদেশে অর্থবহ বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে চীনা বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানাচ্ছি। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার হলে তা উভয় দেশের জন্যই ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে।তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনা প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। বন্ধ রাষ্ট্রীয় মিল-কারখানা পুনরুজ্জীবন, পাটখাতের আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সবুজ শিল্পায়নে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক সবুজ সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানা রয়েছে, যা দেশের উদ্যোক্তাদের পরিবেশ সচেতনতার উজ্জ্বল উদাহরণ। পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিতের মাধ্যমে টেক্সটাইল শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করে গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ ধরনের প্রদর্শনী প্রযুক্তি বিনিময়, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং টেকসই শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পরিচালক শাহ রায়ীদ চৌধুরী, বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ গার্মেন্ট বাইং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) সভাপতি আব্দুল হামিদ পিন্টু, সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফয়েজুল আলম, চাইনিজ ইন্টারপ্রাইজ ইন বাংলাদেশের সভাপতি হান কুন এবং ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি লিসা লু।
অনুষ্ঠান শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এক্সপোর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।উল্লেখ্য, গ্রিন টেক্সটাইল শিল্পের বিশেষায়িত এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ও চীনের খ্যাতনামা টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস কোম্পানি, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তিবিদ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।প্রদর্শনীতে পরিবেশবান্ধব ও রিসাইকেলযোগ্য টেক্সটাইল প্রযুক্তির প্রদর্শন, সেমিনার এবং প্যানেল আলোচনায় দুই দেশের শীর্ষ উদ্যোক্তারা অংশ নিচ্ছেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী আগামী ১৬ মে শেষ হবে।

