প্রতিদিনের ডেস্ক:
ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসি রক্ষায় নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। কোম্পানিটির এআই চ্যাটবটের সঙ্গে ব্যবহারকারীদের আলাপ সুরক্ষিত রাখতে প্লাটফর্মটিতে নতুন মোড যোগ করেছে মেটা।নতুন ফিচারের বিশেষত্ব হচ্ছে- ব্যবহারকারী ও এআইয়ের মধ্যকার বিভিন্ন চ্যাটিং খোদ মেটা কর্তৃপক্ষও পড়তে পারবে না। ফিচারটি নতুন ‘ইনকগনিটো’ মোডের মাধ্যমে কাজ করবে। যার মানে, ফিচারটি চালু থাকলে ব্যবহারকারী ও এআইয়ের আলাপ মনিটর করা হবে না এবং চ্যাটিং শেষ হওয়ার পর আগের সব কথা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে।হোয়াটসঅ্যাপ প্রধান উইল ক্যাথকার্ট বলেছেন, মানুষ স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা অর্থব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এআইয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে চান এবং তারা চান না, এসব তথ্য অন্য কেউ দেখুক। তবে একজন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, চ্যাটিং হিস্ট্রি দেখার সুযোগ না থাকায় ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে হোয়াটসঅ্যাপের দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতার জায়গাটি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।ইনস্টাগ্রাম, ফেইসবুক, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল কোম্পানি মেটা গেল বছর হোয়াটসঅ্যাপে ‘মেটা এআই’ যোগ করার পর অনেক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। কারণ তা বন্ধ করার কোনো উপায় ছিল না। তবে ২০২৫ সালের মে মাসে মার্ক জাকারবার্গ বলেছিলেন, মেটার সব অ্যাপ মিলিয়ে তাদের এআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা এরইমধ্যে ১০০ কোটি ছাড়িয়েছে। ক্যাথকার্ট তার সাম্প্রতিক ঘোষণায় বলেছেন, আমরা অনেকের কাছ থেকেই শুনেছি, তারা কোম্পানির সঙ্গে নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ব্যাপারে অস্বস্তি বোধ করেন। আবার একইসঙ্গে তারা এআই থেকে উত্তরও পেতে চান।বর্তমানে অধিকাংশ এআই কোম্পানিই চ্যাটবট ব্যবহারের তথ্য জমা রাখে। আর যারা প্রিমিয়াম ‘এন্টারপ্রাইজ অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহার করেন না তাদের এসব তথ্য সাধারণত এআইয়ের ভবিষ্যৎ মডেল তৈরির প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়। এ নতুন ফিচারটিকে জাকারবার্গ এমন ‘প্রথম বড় কোনো এআই পণ্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে সার্ভারে আলাপের কোনো রেকর্ড বা লগ জমা রাখা হয় না।
ক্যাথকার্ট বলেছেন, হোয়াটসঅ্যাপের এ ‘ইনকগনিটো’ মোডটি সাধারণ মেসেজ সুরক্ষায় ব্যবহৃত ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ প্রযুক্তির মতো না হলেও তা কার্যকারিতার দিক থেকে সমান। ‘সারে ইউনিভার্সিটি’র সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক অ্যালান উডওয়ার্ড বলেছেন, নতুন এ সিস্টেম চালুর ফলে হোয়াটসঅ্যাপে থাকা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্ষতির মুখে পড়ার ঝুঁকি কম। তবে এ ইনকগনিটো মোড এআইয়ের কোনো ভুল আচরণ বা অপব্যবহার আড়াল করতে পারে কি না সে বিষয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েই গেছে।ওপেনএআই ও গুগলসহ বেশ কিছু এআই কোম্পানি বর্তমানে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু’ সংক্রান্ত মামলার মুখে পড়েছে। অধ্যাপক উডওয়ার্ড বলেছেন, এ ইনকগনিটো মোডের ফলে এআইয়ের দেওয়া উত্তরের বিষয়ে জবাবদিহিতার অভাব দেখা দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি এআইকে করা প্রশ্নগুলো গোপন থাকা উচিত। কারণ মানুষ অনেক ব্যক্তিগত বিষয়ে এআই ব্যবহার করেন। তবে এক্ষেত্রে এআই ব্যবহারকারীকে ভুল পথে পরিচালিত করবে না এমন বিশ্বাসের ওপর অনেক বড় নির্ভরতা তৈরি হচ্ছে।মূল উদ্বেগটি হচ্ছে, মেসেজগুলো যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায় এবং ব্যবহারকারী বা মেটা কেউই তা আর উদ্ধার করতে না পারে তবে কারো চ্যাটিং তাকে কোনো ক্ষতি, মৃত্যু বা আত্মহত্যার দিকে প্ররোচিত করেছে কি না তা প্রমাণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। ক্যাথকার্ট বলেছেন, ইনকগনিটো মোডটি শুরুতে কেবল টেক্সট বা বার্তার ক্ষেত্রে কাজ করবে, ছবির ক্ষেত্রে নয়। এ ছাড়া মেটা এআইয়ের সুরক্ষা ব্যবস্থা সতর্ক থাকবে ও ক্ষতিকর বা অবৈধ মনে হতে পারে এমন যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেবে না।হোয়াটসঅ্যাপ তাদের সিস্টেমে অন্য কোনো এআই চ্যাটবট ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে প্ল্যাটফর্মটির কোটি কোটি ব্যবহারকারী এখন কেবল মেটার নিজস্ব এআই’ই ব্যবহার করতে পারবেন। ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ওয়েলথ ক্লাব’-এর সুজানা স্ট্রিটার বলেছেন, মেটা ২০২৬ সালের মধ্যে এআই অবকাঠামো খাতে সাড়ে ১৪ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বিনিয়োগকারীরা এ বিপুল বিনিয়োগ থেকে অনেক বড় মুনাফা দেখতে চাইছেন।তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীরা মোটা অংকের ব্যয় নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন হলেও মেটা আশাবাদী, এ উদ্যোগ থেকে বড় রিটার্ন আসবে। তারা নিজস্ব প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে এআই অবকাঠামো তৈরি করছে। এমনটি সফল হলে তাদের বিজ্ঞাপন ও বাণিজ্য সাম্রাজ্য আরও বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠবে।

