৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

কর তদন্ত থেকে রেহাই পেলেন ট্রাম্প ও তার পরিবার

প্রতিদিনের ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্য এবং তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে চলমান ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য কর নিরীক্ষা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এই তথ্য জানিয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।মঙ্গলবার প্রকাশিত বিচার বিভাগের এক নির্দেশনায় বলা হয়, ট্রাম্প, তার পরিবারের সদস্য এবং তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে চলমান কিংবা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য যেকোনও কর-সংক্রান্ত তদন্ত বা মামলা ‘চিরতরে বন্ধ ও নিষিদ্ধ’ থাকবে।এই নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ। এক পৃষ্ঠার ওই নথি বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি।ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর বিভাগ আইআরএসের ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলার সমঝোতার পর দিন নতুন এই নির্দেশনা আসে। ওই মামলায় ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে তার কর-সংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফাঁস করা হয়েছিল।বিচার বিভাগের নথিতে উল্লেখ করা হয়, সোমবারের সমঝোতার আগে ট্রাম্প যে কর বিবরণী জমা দিয়েছিলেন, সেগুলো সম্পর্কিত যেকোনও তদন্ত বা সম্ভাব্য তদন্তও এই অব্যাহতির আওতায় পড়বে।
ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা
এ সিদ্ধান্তের পরপরই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে শিফ বলেন, “কর ফাঁকি দেওয়া প্রেসিডেন্ট নিজে ও তার পুরো পরিবারের জন্য কর-সুবিধা নিশ্চিত করলেন, আর এতে সহায়তা করেছেন টড ব্ল্যাঞ্চ।”
‘নজিরবিহীন’ সিদ্ধান্ত
নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির হিসাববিজ্ঞান ও কর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নাথান গোল্ডম্যান এ সিদ্ধান্তকে ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।তিনি বলেন, “সমঝোতার এই ধারা অনুযায়ী ট্রাম্প ও তার পরিবার আর কর নিরীক্ষার মুখোমুখি হবেন না। এটি প্রচলিত করনীতির বাইরে গিয়ে তাদের এমন অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে তারা নিজেদের মতে কর পরিশোধ করতে পারবেন এবং কোনও ধরনের বিচার বা শাস্তির ভয় থাকবে না।”গোল্ডম্যান আরও বলেন, সাধারণ মার্কিন নাগরিক কর কম পরিশোধ করলে নিরীক্ষা, জরিমানা এমনকি কারাদণ্ডের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। কিন্তু ট্রাম্প পরিবারের জন্য আলাদা সুবিধা তৈরি করা হয়েছে।
সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনামলের হোয়াইট হাউসের নৈতিকতা বিষয়ক প্রধান আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টারও এ সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন।তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট বা তার পরিবার যদি আইআরএসের কাছে কর বকেয়া থাকেন এবং সরকার তাদের সেই দায় থেকে অব্যাহতি দেয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ‘ডোমেস্টিক এমোলুমেন্টস ক্লজ’-এর লঙ্ঘন হতে পারে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, কংগ্রেস নির্ধারিত বেতন ছাড়া প্রেসিডেন্ট সরকার থেকে অতিরিক্ত কোনও আর্থিক সুবিধা নিতে পারবেন না।
দীর্ঘদিনের কর প্রকাশের রীতি ভেঙেছিলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টদের কর বিবরণী জমা দেওয়া আইনগত বাধ্যবাধকতা হলেও সাধারণত আইআরএস এসব তথ্য প্রকাশ করে না। তবে ১৯৮০ সাল থেকে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রায় সব প্রেসিডেন্ট প্রার্থী স্বেচ্ছায় তাদের কর বিবরণী প্রকাশ করেছিলেন।ট্রাম্প ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় সেই দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে নিজের কর নথি প্রকাশে অস্বীকৃতি জানান।
‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড’ নিয়েও বিতর্ক
বিচার বিভাগের এই নির্দেশনা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তির পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছে। ওই চুক্তির আওতায় ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড’ নামে একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আইনি হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।সমালোচকদের আশঙ্কা, এই তহবিল ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের পুরস্কৃত করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। প্রায় ১ দশমিক ৭৭৬ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিল পরিচালনায় পাঁচ সদস্যের একটি কমিশন থাকবে, যার চার সদস্যকে সরাসরি নিয়োগ দেবেন টড ব্লাঞ্চ।মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের সঙ্গে উত্তপ্ত প্রশ্নোত্তরে ব্লাঞ্চ দাবি করেন, ট্রাম্প তাকে এ তহবিল গঠনের নির্দেশ দেননি এবং এটি কোনও দলীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না।তিনি বলেন, “আপনি যদি হান্টার বাইডেন হন বা অন্য কেউ হন, এবং যদি মনে করেন আপনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যবস্থার শিকার হয়েছেন, তাহলে এই তহবিলে আবেদন করতে পারবেন।”

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়