দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে, অথচ মানুষের আয় বাড়ছে না। ফলে মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। পরিবারের খাদ্যের মান কমছে। পুষ্টির চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। আবার অপুষ্টিজনিত কারণে রোগ-ব্যাধিও বাড়ছে, যা প্রকারান্তরে মানুষকে আরো দরিদ্র করছে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরো কমাচ্ছে। আর মূল্যস্ফীতি প্রতিরোধে আমাদের নীতিনির্ধারকরা বাস্তব ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তাঁরা একটিই পদক্ষেপ নিতে পেরেছেন, তা হলো নীতি সুদ হার বাড়িয়ে দেওয়া, যার ফলে ব্যাংকঋণের সুদের হার গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ থেকে ১৭ শতাংশে। এমন উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে লাভজনকভাবে ব্যবসা পরিচালনা প্রায় অসম্ভব। এটি প্রকারান্তরে মূল্যস্ফীতি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ এর ফলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হচ্ছে এবং বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক তিন দফায় নীতি সুদ হার বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করেছে। আর সে কারণে ব্যাংকঋণের সুদহার দ্রুত বেড়েছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানায় তার নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে বারবার নীতি সুদ হার কমানোর দাবি তুলেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর তা আমলেই নেননি। এই সরকারও সেই একই ধারা অবলম্বন করে চলেছে। অথচ বিশ্ব এখন নিম্নমুখী সুদহারের সময়ে প্রবেশ করেছে। বিগত এক বছরে উন্নত বিশ্বের সব কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অনেক উন্নয়নশীল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও নীতি সুদ হার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে। যেমন—বাংলাদেশের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায়ও নীতি সুদ হার ২.৭৫ থেকে ৫.২৫ শতাংশের মধ্যে। বিশ্ব যখন নিম্নমুখী সুদহারের সময়ে, তখন আমাদের এমন অনমনীয় মনোভাব কেন? এক লেখায় বলা হয়, আওয়ামী সরকার একমাত্র সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল নিয়েছিল। ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এসে সুদের হার আরো বাড়িয়েছে। বিএনপি সরকারও আগের ধারায়ই চলছে। এতে ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ ও কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ক্যারোলিন এলভিসের একটি নিবন্ধ থেকে দেওয়া উদ্ধৃতিতে বলা হয়, একমাত্র সুদহার বাড়িয়ে কোনোভাবেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। কারণ মূল্যস্ফীতি হওয়ার ভিন্ন ভিন্ন কারণ রয়েছে। ওই সব কারণ একটিমাত্র উপায়ে সমাধান সম্ভব নয়। গত ফেব্রুয়ারিতে এলপি গ্যাসের ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল এক হাজার ৩৫৬ টাকা। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে সরকার দুই দফা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করেছে এক হাজার ৯৪০ টাকা। এমন মূল্যস্ফীতি সুদহার দিয়ে কি কমানো যাবে? গ্যাস-বিদ্যুতের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, প্রতি ইউনিট উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কাঁচামাল আমদানির খরচ বাড়ছে, উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। ফলে মূল্যস্ফীতিও বাড়ছে। বাজারব্যবস্থা, গুদামজাতের অসুবিধা, সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, চাঁদাবাজি, মধ্যস্বত্বভোগীদের উৎপাত, বাজারে নিয়ন্ত্রণের অভাবসহ আরো অনেক কারণে দাম বাড়ে। শুধু সুদহার বাড়িয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আমরা আশা করি, সরকার দ্রুত এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
সুদের হার কমানো প্রয়োজন
Previous article
আরো দেখুন
যুবদল নেতা শহিদ-রানা-তমালের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে শার্শার হাজার-হাজার মানুষ
আনিছুর রহমান, বেনাপোল
যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ, সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা এবং শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহিদের বিরুদ্ধে...
জানালেন অর্থমন্ত্রী বড় মূলধনের কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাধ্যতামূলক করা হবে
প্রতিদিনের ডেস্ক:
দেশের বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে উচ্চ সুদের ব্যাংক ঋণের বিকল্প...

