৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

হামে শিশুমৃত্যুর দায় কার

রুটিন টিকার ঘাটতির কথা জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে বারবার সতর্ক করেছিল জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে তেমন সাড়া মেলেনি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করেনি। এদিকে হামে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু থামছে না। গতকাল আরো ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সংখ্যাটি প্রায় ৫০০ ছুঁই ছুঁই করছে। সংগত কারণেই শিশুদের টিকার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অবহেলা নাগরিকদের ক্ষোভের কারণ হয়েছে। খবরে বলা হয়, গত বুধবার ঢাকায় ইউনিসেফের কার্যালয়ে ‘হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি ও চলমান প্রতিরোধ কার্যক্রম’ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে নিয়মিত টিকার ঘাটতি ছিল। বিষয়টি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ১০ বার বৈঠকে তাঁরা সতর্ক করেছিলেন। পাশাপাশি পাঁচ-ছয়টি চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, টিকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। দ্রুত টিকার অর্ডার দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সরকার সময়মতো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। রানা ফ্লাওয়ার্স আরো জানান, টিকার অর্ডারের জন্য টাকারও অভাব ছিল না। জানা গেছে, টিকা ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার চেয়েছিল উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা ক্রয় করতে। কিন্তু এই পদ্ধতি নিয়েও বিশেষজ্ঞমহলে ঘোর আপত্তি রয়েছে। কেননা টিকার মতো বিশেষায়িত পণ্যের ক্ষেত্রে শুধু কম দাম, বড় বিষয় নয়; বরং এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। এসব দিক বিবেচনায় ইউনিসেফ অনেক বছর থেকে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের পক্ষ থেকে সরাসরি টিকা সংগ্রহ করে থাকে। রানা দাবি করেন, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা ক্রয় করতে প্রায় এক বছর লেগে যেতে পারে। এর আগে ইথিওপিয়া এই পন্থা অবলম্বন করে বড় ধরনের জটিলতায় পড়েছিল। এর পরও অন্তর্বর্তী সরকার কেন সেই পথ অনুসরণ করতে গেল, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আজ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ। প্রতিদিনই শিশুর মৃত্যু এবং সন্তানহারা মা-বাবার আর্তনাদ। সরকারি হিসাবের বাইরেও বহু শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। কাজেই কারো ইচ্ছাকৃত অবজ্ঞার কারণে এত বিপুলসংখ্যক শিশুর মৃত্যুকে অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। তাই টিকা বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়