১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির তৎপরতা

বাজারে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ছে। বাড়িভাড়া বাড়ছে। যাতায়াত খরচ বাড়ছে। অর্থাৎ জীবনযাত্রার প্রতিটি পর্যায়ে ব্যয় বাড়ছে, কিন্তু বাড়ছে না আয়। আয় ও ব্যয়ের এই অসংগতির কারণে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের রীতিমতো চিড়েচ্যাপ্টা অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যে প্রক্রিয়া চলছে, তাতে সাধারণ মানুষ রীতিমতো শঙ্কিত। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, জনজীবনের অপরিহার্য এই সেবাটির দাম বাড়ানো হলে তা হবে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’র মতো। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) দ্বিতীয় দিনের গণশুনানিতে বিদ্যুৎ বিতরণকারী ছয়টি প্রতিষ্ঠানের খুচরা বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। শুনানিতে খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের জন্য ১৫ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর আগের দিন শুনানিতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। গণশুনানিতে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ খাতের অদক্ষতা, সিস্টেম লস, দুর্নীতি ও ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা সাধারণ গ্রাহকের ওপর চাপানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা বলেন, বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম, অদক্ষতা, চুরি ইত্যাদি কমানো গেলে বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে বরং তা আরো কমানো যাবে। গণশুনানির এক পর্যায়ে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ স্বীকার করেন, বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ এখন বড় বোঝায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে ভর্তুকির পরিমাণ অনেক বেড়েছে। এটি জাতির জন্য ক্ষতির কারণ। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট কম্পানিগুলোর ফিন্যানশিয়াল অডিটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন। বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বিইআরসির কাছে সাত দফা দাবি দিয়েছে। সংগঠনটি স্টিলশিল্পে বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত রাখা, ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট কমানো, পাওয়ার ফ্যাক্টর চার্জ পুনর্বিবেচনা, ক্যাপাসিটি চার্জ প্রত্যাহার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, ভারী শিল্পের জন্য বিশেষ ট্যারিফ চালু এবং সিকিউরিটি মানির বিপরীতে সুদ বা বিল সমন্বয়ের সুবিধা চেয়েছে। বিএসএমএ বলেছে, বিদ্যুতের ব্যয় বাড়লে শিল্প খাত, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভোক্তার স্বার্থ নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমরা আশা করি, মূল্যস্ফীতির এই কঠিন সময়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মতো জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে না।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়