১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বিশ্বকাপের আগে ইনজুরি শঙ্কা নিয়ে মাঠ ছাড়লেন মেসি

প্রতিদিনের ডেস্ক:
বিশ্বকাপের ঠিক আগে যখন প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি দৌড় আর প্রতিটি ম্যাচ হয়ে ওঠে উদ্বেগ আর প্রত্যাশার মিশ্র গল্প। তখন লিওনেল মেসিকে মাঠ ছাড়তে দেখা মানেই কোটি হৃদয়ে ধাক্কা। উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপের আগে শেষ ক্লাব ম্যাচে এমন এক মুহূর্তেই শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা শিবিরে। তবে উদ্বেগের ভেতরেও এসেছে স্বস্তির বার্তা।ইন্টার মায়ামির হয়ে বিশ্বকাপের আগে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৬-৪ গোলের জয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন তিনি। করেন ২টি অ্যাসিস্ট।
রবিবার রাতে নু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু ম্যাচের ৭৩ মিনিটে, যখন স্কোরলাইন ৪-৪ সমতায়, তখন নিজেই বদলির আবেদন জানান মেসি। এরপর মাঠ ছাড়ার পর সরাসরি টানেল দিয়ে ড্রেসিংরুমে চলে যান তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বকাপের আগে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়।
৩৮ বছর বয়সী এই তারকাকে মাঠ ছাড়ার সময় নিজের শর্টস তুলে বাম পায়ের পেছনের অংশে হাত দিতে দেখা যায়। এতে অনেকে আশঙ্কা করেন, হয়তো গুরুতর চোটে পড়েছেন তিনি।
তবে ইন্টার মায়ামির কোচ গিয়ের্মো হোয়োস শুরুতে জানান, এটি মূলত ক্লান্তির কারণে হয়েছে। তিনি বলেন, “সে ক্লান্ত ছিল। মাঠও ভারী ছিল। এমন অবস্থায় সামান্য সন্দেহ থাকলেও ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়।” পরে আরও স্পষ্ট তথ্য দেন আর্জেন্টিনার সাংবাদিক গাস্তোন এদুল। তার মতে, মেসির বদলি হওয়া ছিল সম্পূর্ণ সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত।তিনি জানান, মেসির কোনো পেশির চোট হয়নি। কেবল উরুর পেছনের মাংসপেশিতে টান অনুভব করেছিলেন তিনি। তাই বাড়তি চাপ না নিয়ে দ্রুত মাঠ ছাড়েন। অর্থাৎ, বিশ্বকাপের আগে বড় চোটের শঙ্কা আপাতত নেই।
বিশ্বকাপ বিরতির আগে এটি ছিল ইন্টার মায়ামির হয়ে মেসির শেষ ম্যাচ। অনেকের ধারণা, এটিই হতে যাচ্ছে তার শেষ বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে জুনের শুরুতে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে।এরপর ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা রক্ষার অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা। ‘জে’ গ্রুপে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।আগামী সপ্তাহে আর্জেন্টিনার চূড়ান্ত দল ঘোষণা হওয়ার কথা। সেখানে মেসির জায়গা নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে। সেটি হলে এটি হবে তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ।আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে নিজেদের ঘাঁটি গড়বে কানসাস সিটিতে। গ্রুপপর্বের একটি ম্যাচও হবে সেখানে। অন্য ২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে টেক্সাসের আরলিংটনে।
জাতীয় দলের হয়ে মেসির পরিসংখ্যান এখনও বিস্ময় জাগানো। ১৯৮ ম্যাচে করেছেন ১১৬ গোল। আর ৫টি বিশ্বকাপে করেছেন ১৩ গোল।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়