প্রতিদিনের ডেস্ক:
আজ (৩০ মে) সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আইআইএসএস শাংরি-লা ডায়ালগ নিরাপত্তা শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন হেগসেথ। কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে ইরানে আবারও সামরিক হামলা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৩০ মে) হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ কথা বলেন।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের কূটনীতিকরা যখন চলমান যুদ্ধ অবসানের চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সমঝোতার চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই এই হুঁশিয়ারি বার্তা দেন হেগসেথ।এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা সম্মেলন ‘শাংরি-লা ডায়ালগ’-এ অংশ নিতে বর্তমানে সিঙ্গাপুরে রয়েছেন মার্কিন পেন্টাগন প্রধান। সেখানে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আবারও হামলা শুরু করার পূর্ণ সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।’হেগসেথ আরো বলেন, ‘আমাদের অস্ত্রের মজুদ কেবল ওই অঞ্চলেই নয়, বরং বিশ্বজুড়েই এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত এবং আমরা অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া-প্যাসিফিক বা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে নিজেদের চোখ ফিরিয়ে নেয়নি।তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে দুটি কাজই করতে পারি। আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরো শক্তিশালী করছি, যার ফলে শীঘ্রই আমরা আগের চেয়ে দ্বিগুণ, তিনগুণ বা চারগুণ বেশি গোলাবারুদ তৈরি করতে পারব। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আমাদের সমস্ত সামরিক পরিকল্পনাগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। পেন্টাগন প্রধানের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক্ষেত্রে বেশ ‘ধৈর্য’ দেখাচ্ছেন এবং তিনি এমন একটি ‘চমৎকার চুক্তি’ করতে চান, যা নিশ্চিত করবে যে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।
এর আগে শুক্রবার (২৯ মে) ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধ অবসানের একটি প্রস্তাবের বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে তিনি হোয়াইট হাউসের একটি নিরাপদ কক্ষে বৈঠকে বসবেন। এই প্রস্তাবের আওতায় গত এপ্রিলের শুরুতে হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো ৬০ দিন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যা স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য দুই দেশের কূটনীতিকদের পর্যাপ্ত সময় দেবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক।শুধু তাই নয়, যুদ্ধের কারণে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে।

