প্রতিদিনের ডেস্ক:
ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার খসড়া চুক্তিতে শেষ মূহূর্তে পরিবর্তন এনেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে তিনি পূর্বনির্ধারিত শর্তাবলী আরো কঠোর করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং অ্যাক্সিওস। খবর আরটির। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দুটি জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) উভয় দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছিল। এর আওতায় গত এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু করার কথা ছিল।কিন্তু এর ঠিক একদিন পরেই ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের জরুরি বৈঠক ডাকেন।নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ সচল করার বিধান নিয়ে ট্রাম্প তীব্র আপত্তি তোলেন। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে তেহরানের ধীরগতির প্রতিক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চুক্তির খসড়া সংশোধনের নির্দেশ দেন।অন্যদিকে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প এই চুক্তিতে আরো সুনির্দিষ্ট কিছু ধারা যুক্ত করতে চান। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এবং কখন ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট রূপরেখা চান তিনি।শনিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি একটি ‘দুর্দান্ত চুক্তি’ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর, যা গ্যারান্টি দেবে যে ‘ইরানে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না’।শুরুর দিকে চুক্তি করার বিষয়ে তার “কোনো তাড়া নেই” বলে জোর দিলেও, পরবর্তীতে একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেন, তিনি ‘তাড়াহুড়ো করছেন কারণ জ্বালানি তেলের (গ্যাসোলিন) দাম বেড়ে যাচ্ছে’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুমকি দিয়ে বলেন, ইরান যদি তার দাবি মেনে না নেয়, তাহলে তিনি ‘সামরিকভাবে এর সমাপ্তি ঘটাবেন’।এদিকে, তেহরান বারবার বলে আসছে, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তি উন্নয়ন করার অধিকার তাদের রয়েছে এবং এটি কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার বিষয়টিও অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন।শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ করার অভিযোগ এনেছেন। আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সামরিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করা যাবে না। ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও জানিয়েছেন, ইরান তার সার্বভৌম অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।

