নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকায় নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী নিজ শরীরেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সোমবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছামিনা আক্তার (২০) নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী সুজন (২৬) টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তারা বর্তমানে যশোর কোতোয়ালী থানার শেখহাটি তামালতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর রাতে নেশার টাকার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী ছামিনা আক্তারকে ধারালো চাকু দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর সুজন নিজেও ধারালো চাকু দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাকিরুল কবির জানান, “প্রথমে ছামিনা আক্তারকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরে তার স্বামী সুজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়। তার বুক ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।” নিহতের চাচা ইয়াসিন বলেন, “নেশার টাকার জন্য প্রায়ই সংসারে অশান্তি হতো। টাকা না পেয়ে সুজন আমার ভাতিজিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে।” স্থানীয় ৭ নম্বর নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মামুন-আর-রশিদ বলেন, “নেশার টাকার জন্য ভোর রাতে স্বামী তার স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।” যশোর কোতোয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, নেশার টাকা না পাওয়ায় স্বামী তার স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এবং পরে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। অভিযুক্ত সুজন বর্তমানে যশোর সদর হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।” পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহত ছামিনা আক্তারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

