প্রতিদিনের ডেস্ক:
ফুটবল বিশ্বকাপের মহারণ শুরুর অপেক্ষায় বিশ্ব। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত দলগুলো। আর এই বিশ্বমঞ্চের আলো কাড়তে মুখিয়ে আছেন একঝাঁক তরুণ ফুটবলার, যাদের প্রতিভার ঝলক ইতিমধ্যেই ক্লাব ফুটবলে সাড়া ফেলেছে। এবারের আসরে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে এমনই কিছু উদীয়মান তারকার ওপর।সুইজারল্যান্ডের তরুণ মিডফিল্ডার জোহান মাঞ্জাম্বি এবার বড় চমক হতে পারেন। ফ্রাইবুর্গকে ইউরোপা লিগের ফাইনালে তুলতে দারুণ ভূমিকা রাখা ২০ বছর বয়সী এই ফুটবলার মাঠের চূড়ান্ত তৃতীয়াংশে যেকোনো রক্ষণভাগ ভেঙে চুরমার করতে পারেন। তার গোলক্ষুধা ও বল ড্রিবলিংয়ের ক্ষমতা ইতিমধ্যেই সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন ও অধিনায়ক গ্রানিত জাকার প্রশংসা কুড়িয়েছে। অন্যদিকে, স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের গোল খরা কাটানোর গুরুদায়িত্ব থাকবে পিএসভি আইন্দহোভেনের ২৩ বছর বয়সী স্ট্রাইকার রিকার্ডো পেপির কাঁধে। ডাচ লিগে ১৯ গোল করে দলকে শিরোপা জেতানো পেপি বিশ্বমঞ্চে স্বাগতিকদের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে ট্রাম্পকার্ড হতে পারেন।
আর্জেন্টাইন শিবিরের নতুন সেনসেশন ২১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার নিকো পাজ। সেস ফ্যাব্রিগাসের অধীনে ইতালিয়ান ক্লাব কোমোতে চমৎকার মৌসুম কাটানো এই বাঁ-হাতি ফুটবলারকে অনেকেই লিওনেল মেসির সাথে তুলনা করতে শুরু করেছেন। সিরি-আ-তে সবচেয়ে বেশি ড্রিবল সম্পন্ন করা পাজ যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। গতি আর ড্রিবলিংয়ের পসরা সাজিয়ে নজর কাড়ছেন মরক্কোর তরুণ উইঙ্গার গেসিম ইয়াসিন। অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা বর্তমানে খেলছেন স্ত্রাসবুর্গে, যার ওপর ইতিমধ্যেই বার্সেলোনার মতো ক্লাবের নজর পড়েছে। এছাড়া মরক্কো দলে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত ১৮ বছর বয়সী উইং-ব্যাক আইয়ুব বুয়াদ্দি, যাকে ফরাসি অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলার সময় তার বুদ্ধিমত্তার জন্য ‘আইনস্টাইন’ নামে ডাকা হতো।
প্রতিরক্ষা দেয়াল মজবুত করতে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে মাঠে নামবেন কলরাডো র্যাপিডসের ১৮ বছর বয়সী তরুণ সেন্টার-ব্যাক লুকাস হ্যারিংটন। মেজর লিগ সকারে দুর্দান্ত পারফর্ম করে তিনি অজি স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগে তার সঙ্গী হবেন পারমার ২২ বছর বয়সী ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো চিরকাতি, যিনি ইতিমধ্যেই দলের সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক হয়ে নজির গড়েছেন। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার নতুন পোস্টার বয় বলা হচ্ছে ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার কেরিম আলাজবেগোভিচকে, যিনি প্লে-অফে ঠান্ডা মাথায় জয়সূচক পেনাল্টি নিয়ে দলকে বিশ্বকাপে টেনে তুলেছেন। অন্যদিকে, তুরস্কের মাঝমাঠের ভরসা হয়ে উঠছেন ফ্রাঙ্কফুর্টের ২০ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার কান উজুন।
স্বাগতিক মেক্সিকো দলের আক্রমণভাগের অন্যতম অস্ত্র ২৩ বছর বয়সী স্ট্রাইকার আরমান্ডো গঞ্জালেজ। চিভাস ডি গুয়াদালাজারার হয়ে গত মৌসুমে ২৫ গোল করা গঞ্জালেজের খেলার মধ্যে অনেকেই কিংবদন্তি হাভিয়ের হার্নান্দেজ চিচারিতোর ছায়া দেখছেন। তার সাথে মেক্সিকান মাঝমাঠে আলো ছড়াবেন ইউএসএ থেকে খেলার সিদ্ধান্ত বদলে মেক্সিকোতে যোগ দেওয়া ২২ বছর বয়সী ব্রায়ান গুটিয়েরেজ। আইভরি কোস্টের উইঙ্গার বাজুমানা তুরের গতিময় ফুটবলও এবার দর্শকদের রোমাঞ্চিত করবে। হোফেনহাইমে খেলা এই উইঙ্গারকে তার গতির জন্য ‘দ্য হারিকেন’ নামে ডাকা হয়।
এবারের আসরে চমক দেখাতে পারে আলজেরিয়া দল। দলটির অন্যতম প্রাণভোমরা অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার হুসেম আউয়ার, যিনি সৌদি প্রো লিগে আল-ইতিহাদের হয়ে ১৫ গোল করে নিজের পুরোনো ফর্ম ফিরে পেয়েছেন। আক্রমণভাগে তার সঙ্গী নেকড়ে খ্যাত ওল্ফসবার্গের স্ট্রাইকার মোহাম্মদ আমৌরা, যিনি আফ্রিকান বাছাইপর্বে সালাহকেও ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০টি গোল করেছিলেন। এই দলে আরও আছেন ২০ বছর বয়সী ইব্রাহিম মাজা, যাকে আলজেরিয়ার সমর্থকরা ভালোবেসে ‘মাজাদোনা’ বলে ডাকেন। ল্যাতিন পরাশক্তি কলম্বিয়ার জার্সিতে এবার গোলের বন্যা বইয়ে দিতে প্রস্তুত স্পোর্টিং লিসবনের ২৮ বছর বয়সী স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ, যিনি পর্তুগিজ লিগে এক মৌসুমে ৩৮ গোল করে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। আর সবশেষে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগের ভবিষ্যৎ লুকাস ভুশকোভিচের দিকে নজর থাকবে সবার। টটেনহ্যামের চুক্তিবদ্ধ এই ১৯ বছর বয়সী তরুণ হ্যামবার্গে ধারে খেলে রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি ৬টি গোলও করেছেন।
সূত্র: বিবিসি

