২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ডাটা খরচ কমানোর ৫টি কার্যকর কৌশল

প্রতিদিনের ডেস্ক:
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে স্মার্টফোন ছাড়া আমাদের একদিনও চলে না। আর স্মার্টফোন সচল রাখার প্রধান জ্বালানি হলো ইন্টারনেট ডেটা বা এমবি। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করেন, চড়া দামে ডেটা প্যাক কেনার পরও চোখের পলকে তা শেষ হয়ে যায়। অনেক সময় ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে কেটে নেওয়া হয় অতিরিক্ত ডেটা।মোবাইলের ডেটা খরচ নিয়ন্ত্রণে রেখে কীভাবে মাসজুড়ে নিশ্চিন্তে ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন, তার কিছু কার্যকর ও ইউনিক কৌশল দেওয়া হলো–
১. ‘অটো-আপডেট’ ও ‘অটো-প্লে’ চিরতরে বন্ধ করুন
আমাদের অজান্তেই প্লে-স্টোর বা অ্যাপ স্টোর অ্যাপস আপডেট করার কারণে সবচেয়ে বেশি ডেটা অপচয় হয়। এছাড়া ফেসবুক, ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করার সময় ভিডিও নিজে নিজেই চালু হয়ে যায়।
করণীয়: গুগল প্লে-স্টোর বা অ্যাপ স্টোরের সেটিংসে গিয়ে ‘অটো-আপডেট অ্যাপস ওভার ওয়াইফাই অনলি’ সিলেক্ট করে রাখুন। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সেটিংস থেকে ভিডিও ‘নেভার অটো-প্লে’ করে দিন।
২. ডাটা সেভার মোড অন রাখুন
অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস—উভয় অপারেটিং সিস্টেমেই বিল্ট-ইন ‘ডেটা সেভার’ ফিচার থাকে। এটি চালু থাকলে ব্যাকগ্রাউন্ডে কোনও অ্যাপ অতিরিক্ত ডেটা খরচ করতে পারে না।করণীয়: ফোনের সেটিংস > নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ইন্টারনেট > ডেটা সেভার অপশনে গিয়ে এটি চালু করে দিন।
৩. ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা লিমিট করুন
আমরা যখন কোনও অ্যাপ ব্যবহার করি না, তখনও সেটি ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে রিফ্রেশ হতে থাকে এবং ইন্টারনেট খরচ করে। যেমন-হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ বা ইমেলের নোটিফিকেশন আসা।
করণীয়: যেসব অ্যাপ আপনার সবসময় প্রয়োজন নেই (যেমন-গেমস বা শপিং অ্যাপ), সেগুলোর অ্যাপ ইনফোতে গিয়ে ‘ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা’ অপশনটি বন্ধ করে দিন।
৪. অ্যাপসের ‘লাইট’ সংস্করণ ব্যবহার করুন
ফেসবুক, মেসেঞ্জার বা ইনস্টাগ্রামের মূল অ্যাপগুলো প্রচুর ডেটা এবং স্টোরেজ গ্রাস করে। আপনি যদি সীমিত ডেটা ব্যবহারকারী হন, তবে এই অ্যাপগুলোর ‘লাইট’ সংস্করণ আপনার জন্য সেরা সমাধান।
সুবিধা: লাইট অ্যাপগুলো কম ডেটা খরচ করে দ্রুত লোড হয় এবং ফোনের র‍্যামের ওপরও চাপ কমায়।
৫. ম্যাপ এবং মিউজিক ব্যবহার করুন ‘অফলাইন’ মোডে
রাস্তাঘাট চিনতে গুগল ম্যাপ বা গান শোনার জন্য স্পোটিফাই বা ইউটিউব মিউজিক আমরা প্রতিনিয়ত ব্যবহার করি। প্রতিবার লাইভ ম্যাপ বা গান স্ট্রিমিং করলে বিপুল পরিমাণ ডেটা খরচ হয়।
করণীয়: আপনার নিয়মিত যাতায়াতের রাস্তা বা পছন্দের গানের প্লে-লিস্টটি যখন ওয়াই-ফাই জোনে থাকবেন, তখনই ‘অফলাইন’ ডাউনলোড করে রাখুন। এতে লাইভ ডেটা খরচের ঝামেলা থাকবে না।
প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার ফোনের ডেটা ইউসেজ চেক করুন। সেখানে দেখতে পাবেন কোন অ্যাপটি সবচেয়ে বেশি এমবি কাটছে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে মাসের ইন্টারনেট খরচ প্রায় ৩০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়