প্রতিদিনের ডেস্ক:
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে রবিবার এই মামলায় আবুল বারকাতকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তার আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করে সোমবার শুনানি করবেন মর্মে আদালতকে জানান। আদালত আবুল বারকাতকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে জামিন শুনানির দিন রাখেন সোমবার। সেদিন জামিন আবেদন করলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত নামঞ্জুর করেন। এরপর আজ মঙ্গলবার দুপুরে আবার জামিন চেয়ে আবেদন করলে আদালত ৫ হাজার টাকা বন্ডে পুলিশ রিপোর্ট পর্যন্ত জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এদিন আবুল বারকাতের পক্ষে তার আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, “কী কারণে তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো, ঘটনার সঙ্গে তার কী সম্পৃক্ততা রয়েছে তা আমাদের জানা নেই। তিনি অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষ। অসুস্থতা ও বয়স বিবেচনায় তার জামিন প্রার্থনা করছি। আর তিনি যে ব্যক্তি তাতে তার এই ঘটনার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক থাকার, কোনোভাবে জড়িত থাকার কথা নয়। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগও নেই।” এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামছুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন।
উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই রাতে ধানমণ্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে আবুল বারকাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৭ জুন দুদকের এই মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান আবুল বারকাত। নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ।জামিন পেলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক। ওইদিন জুলাই আন্দোলনের সময়কার আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন ডিবি পুলিশ।মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে নীলক্ষেত এলাকায় গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন। এই মামলায় বাদী হয়েছেন তার শ্যালক আব্দুর রব। মামলা হয় নিউমার্কেট থানায়। এতে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ আসামি করা হয় ১৩০ জনকে।

