৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

পাইকগাছার গড়ইখালী বাজারের সরকারি জমি দখলের অভিযোগ

মাজহারুল ইসলাম মিথুন, পাইকগাছা
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গড়ইখালী বাজার। এই বাজারকে ঘিরে জীবিকা চলে শত শত ব্যবসায়ীর। কিন্তু বাজারের সরকারি পেরিফেরির কয়েক বিঘা জমি কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির অবৈধ দখলে থাকায় ব্যবসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ উঠেছে, বাবু গাইন, কামরুল গাইন, কন্টু গাইন, আজমুল গাইন, জাকির হোসেন ও মাহিন সানা এই ছয় ব্যক্তি মিলে বাজারের পেরিফেরির জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাবু গাইন সরকারি চাঁদনি দখল করে কাঠের আড়ৎ ও করাত কল বসিয়েছেন। কন্টু গাইনও একইভাবে করাত কল স্থাপন করে সরকারি পুকুর দখলে নিয়ে মাছ চাষ করছেন। জাকির হোসেন নদীর ধারে বাজারের জমিতে করাত কল বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। আরেক অভিযুক্ত কামরুল গাইন বাজারের জায়গা দখল করে দোতলা ভবন নির্মাণ করেছেন এবং সেখান থেকে ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে গত ১১ জুন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম। আবেদনে দখলকৃত জমি দ্রুত উদ্ধার করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়বে। তারা সরকারি জমি দখলমুক্ত করে ন্যায়সংগত বরাদ্দ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। বাজার বনিক সমিতির সভাপতি আমিনুল হক জানান, বাজারটি পেরিফেরির আওতাভুক্ত। বাজারের অনেক জায়গা অবৈধ দখল হয়ে গেছে। সেই জায়গা দখল মুক্ত করে বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে বরাদ্দ দেয়ার আবেদন জানান।দখলের বিষয়ে বাবু গাইন বলেন, তিন নামে আমার একটা জমি বন্দবস্ত নেয়া আছে। টাকার অভাবে সেখানে এখনো ঘর করতে পারিনি। আমি কোন জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করিনি। সরকারের কর খাজনা দিয় আমি জমি বরাদ্দ নিয়েছি।
কামরুল গাইন বলেন, বাজারে আমার দুটি পজিশন আছে যা আমার কেনা। পরবর্তীতে সরকারের পেরিফেরির নিয়ম কানুন মেনে কর খাজনা প্রদান করছি। আমি এক শতাংশ জমিও দখল করিনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, আবেদন পেয়েছি। পেরিফেরির জায়গা অবৈধ দখল মুক্ত করতে তালিকা করে ডিসি অফিসে প্রেরন করা হয়েছে। অচিরেই পেরিফেরির জমি উদ্ধারের কাজ শুরু করা হবে।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়