প্রতিদিনের ডেস্ক:
ঝিনাইদহের চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন ঝিনাইদহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল।গত ১৬ জুন এ মামলায় শুনানি শুরু হয়। ১৭ জুন চার্জ গঠন শেষে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষ্য প্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেন।দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের (৩৩) কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামের মসলেম উদ্দিনের ছেলে।ঘটনার চার মাসের মধ্যে সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় মাত্র ৫ কর্মদিবসে চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রায়ের পর আদালত ও সরকারের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছে ভিকটিম শিশুর পরিবার।এর আগে রোববার (২১ জুন) ঝিনাইদহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। ওইদিনই রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত। চাঞ্চল্যকর এ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে খুশি আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকরাও।আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের ওই শিশুকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যান অভিযুক্ত আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করতে গেলে আবু তাহের লুঙ্গি দিয়ে তার মুখ ও নাক চেপে ধরেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্বাসরোধে মারা যায় শিশুটি। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন অভিযুক্ত আবু তাহের।পরদিন সকালে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তার বাবা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে আবু তাহেরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।মামলার পরপরই পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ওই দিন রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আসামি আবু তাহের পুলিশের কাছে এবং পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। এরপর দ্রুততম সময়ে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে রোববার যুক্তিতর্ক শেষ হয়।মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহের একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং নিহত শিশুর বাড়ির পাশেই ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।রায় প্রকাশের পর শিশুটির বাবা বলেন, সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে আইনমন্ত্রী মহোদয় এই মামলা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন। আমরা চাই, উচ্চ আদালতেও যেন এ রায় বহাল থাকে।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সব তথ্য-প্রমাণ ও ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছি। আদালত আমাদের প্রত্যাশিত রায় দিয়েছেন। উচ্চ আদালতে যেন আসামির দণ্ড বহাল থাকে, সেটাই প্রত্যাশা।
