সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে সরকার: মির্জা ফখরুল

প্রতিদিনের ডেস্ক:
সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাংবিধানিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সব নাগরিকের সম-অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারায় সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।”তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি গোষ্ঠী বিএনপিকে সংখ্যালঘু ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বিএনপি ঐতিহাসিকভাবে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে।মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। যুগ যুগ ধরে এ দেশের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো- সব ধর্মাবলম্বী নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা, আর সরকার সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে চায়।”বৈঠকে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির নেতারা চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান চন্দ্রনাথ ধামে আগত ভক্তদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয় তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিদেশ থেকে হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ পূজা-অর্চনা ও তীর্থযাত্রার জন্য সেখানে আসেন। পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও যোগাযোগ সুবিধার অভাবে তাদের নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শোনার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি চন্দ্রনাথ ধামের সিঁড়ি নির্মাণ ও সংস্কার, মন্দিরের উন্নয়ন এবং আশপাশের এলাকার অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানের উন্নয়ন শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, পর্যটন বিকাশ, স্থানীয় অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনগণের চাহিদা ও বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় সরকার এসব স্থানের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।”বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাইসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়