নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের ৮ নম্বর দেওড়া ইউনিয়নের আমদাবাদ গ্রামের ঘোষপাড়ায় কথিত “জিন সাপের” কামড়ে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘটনার পর মাত্র একদিনের ব্যবধানে আরও ৬০ থেকে ৭০ জন একই ধরনের “সাপের কামড়ে” আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত চিকিৎসক বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বৈজ্ঞানিক বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে পলাশ ঘোষের ছেলে পাপন ঘোষ ঘুম থেকে উঠে পেটে ব্যথার কথা জানান। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁকের ব্যবস্থাও করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এক ওঝা পরিবারের সদস্যদের জানান, পাপনকে “জিন সাপ” কামড়েছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে পাপনের মৃত্যু হয়। পাপনের মরদেহ দাহ করার পর শনিবার সকাল থেকেই এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘোষপাড়ার ৬০ থেকে ৭০ জনকে একই “জিন সাপ” কামড় দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন রিয়া, অজয়, শেফালী, নিত্যানন্দ, সোমেন, প্রতীক, সিধু, চন্দনা, সোহাগী, মুন, সদানন্দ ও মনিরসহ আরও অনেকে। ঘটনার পর ছোট ছোট শিশুদের ঘরের বাইরে যেতে দিচ্ছেন না অভিভাবকরা। পুরো এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ৮ নম্বর দেওড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, “পাপনের মৃত্যুর পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ৬০ থেকে ৭০ জনকে সাপে কামড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে জরুরি সভা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।” যশোর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হুসেইন সাফায়েত জামিল বলেন, “আইসিইউতে একজন রোগীর মৃত্যুর কথা শুনেছি। কী কারণে মৃত্যু হয়েছে, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানানো হবে।” তবে ‘জিন সাপ’ নামে কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব বা এ ধরনের কামড়ের দাবির সত্যতা এখনো সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, প্রশাসন বা বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেননি। পাপনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অন্যদের অসুস্থতার কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন।কথিত ‘জিন সাপের’ কামড়ে মৃত্যুর খবর এবং গণহারে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেওড়া ইউনিয়নের আমদাবাদ গ্রামের ঘোষপাড়ায় এখন চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
