হরমুজ প্রণালি ইরানের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার: গালিবাফ

প্রতিদিনের ডেস্ক:
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হরমুজ প্রণালিকে দেশটির প্রধান কৌশলগত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নিজের সার্বভৌম অধিকার থেকে ইরান এক চুলও পিছু হটবে না।মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইরানি একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গালিবাফ এসব কথা বলেন। খবর প্রেস টিভির।সাক্ষাৎকারে গালিবাফ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকটি কেবল এই প্রণালিতে সামুদ্রিক পরিষেবা ফির ক্ষেত্রে একটি সাময়িক ছাড় মাত্র, এটি কোনোভাবেই সার্বভৌমত্বের বিষয়ে ইরানের অবস্থানকে পরিবর্তন করে না।”তিনি বলেন, “এগুলো আমাদের আঞ্চলিক জলসীমা। ইরান হরমুজ প্রণালিকে সামরিকীকরণ করেছে- এমন দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো বিতর্ক বা কূটতর্ক সৃষ্টির সুযোগ আমরা দেব না।”তিনি আরো যোগ করেন, “ইরান কোনো অবস্থাতেই এই অবস্থান থেকে কখনো পিছু হটবে না।”কালিবফ এই জলপথকে ‘এই যুদ্ধ চলাকালীন ঈশ্বর প্রদত্ত একটি ঐশ্বরিক উপহার’ এবং ‘আমাদের শক্তির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেন।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর ইরান শত্রু ও তাদের মিত্রদের জন্য এই জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল।
গত ৭ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর অবৈধ নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর, ইরান এই জলপথে আরো কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ শুরু করে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার আরো জানান, সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইন এবং উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম অধিকার মেনে ইরান ও ওমান যৌথভাবে এই প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সামুদ্রিক পরিষেবা নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, “ইরান ও ওমান ইতিমধ্যেই সব আইনি এবং পরিষেবা-সংক্রান্ত বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছেছে।”
৫টি শর্ত পূরণ না হলে পরবর্তী ধাপে যাবে না ইরান
গালিবাফ জানান, সমঝোতা স্মারকের পাঁচটি মূল ধারা পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত ইরান এর পরবর্তী ধাপগুলোর বাস্তবায়নে যাবে না।তিনি বলেন, “যতক্ষণ না সমঝোতার এই পাঁচটি ধারা পুরোপুরি সুসংহত ও চূড়ান্ত হচ্ছে, ততক্ষণ ইরান বাকি ধারাগুলো বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হবে না।”
গালিবাফের মতে, এই ধারাগুলোর মধ্যে রয়েছে- যুদ্ধ বন্ধ করা, লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করা, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের তেল রপ্তানি নিশ্চিত করা এবং অবরুদ্ধ করে রাখা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা।লেবানন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আলোচনায় লেবাননই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। লেবানন থেকে দখলদার ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের ঘরে ফেরাতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন একটি যৌথ তদারকি মেকানিজম গঠনে সম্মত হয়েছে।লেবাননে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি’ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, আমেরিকা লেবাননে ইসরায়েলি আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যা লেবাননের জনগণ ও সংবিধানের পরিপন্থি। অন্যদিকে ইরান লেবাননের স্বাধীনতা রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচি আলোচনার বাইরে উল্লেখ করে গালিবাফ বলেন, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও সামরিক সক্ষমতা একেবারেই আলোচনার বাইরে। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ আমাদের বৈধ ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার, এ নিয়ে কোনো আপস হবে না।”তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যুক্তির ভাষায় আলোচনা করতে চাই। তবে যেখানে যুক্তির ভাষা ও সমঝোতা স্মারক কাজ করবে না, সেখানে শক্তির ভাষা প্রয়োগ করা হবে।”

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়