প্রতিদিনের ডেস্ক:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য। এসব পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করতে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মূলত এসব প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ পাবেন সহকারী শিক্ষকরা।এতে নতুন করে ৩৬ হাজার ২৩৫টি সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য হবে। পাশাপাশি আরও দুই হাজার সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। সবমিলিয়ে নতুন করে ৩৮ হাজার ৪৪৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হবে। এসব পদেও শিগগির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, সাড়ে ৩২ হাজারেরও বেশি প্রধান শিক্ষক পদোন্নতিতে জট কেটেছে। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৩৬ হাজার ২৩৫টি শূন্যপদ রয়েছে। এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হলে সহকারী শিক্ষক থেকে পদোন্নতি পাওয়ায় নতুন করে ৩৮ হাজার ৪৪৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হবে।সহকারী শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি কবে প্রকাশ করা হবে, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির আইনি বাধা দূর হওয়ায় প্রায় ৩৮ হাজার ৪৪৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হবে। এসব পদে ইমিডিয়েট নিয়োগ দেওয়া হবে।এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক সংকট দূর করতে পর্যায়ক্রমে শূন্য পদগুলো পূরণে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। নতুন করে সৃষ্টি হওয়া শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হলে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট অনেকাংশে কমে আসবে।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আদালতের রায় পাওয়ার পরপরই যখন আমাকে অ্যাটর্নি জেনারেল ফোন করে জানালেন, তখনই আমি পিএসসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি, আমরা এ নিয়োগটি কতটা দ্রুত করতে পারি। তিনি তাৎক্ষণিক বলেছেন, আপনি রিকুইজিশন পাঠান।’তিনি বলেন, আজই আমি প্রায় ঘণ্টাখানেক আগে আমাদের শিক্ষা সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা সচিবকে নির্দেশ দিয়েছি, আপনারা রিকুইজিশন তৈরি করবেন। আজ বিকেলের মধ্যেই আমরা পিএসসিতে এ রিকুইজিশনগুলো পাঠাবো, যাতে তারা বিশেষ ব্যবস্থায় এ নিয়োগগুলো দিতে পারে।ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, পিএসসি চেয়ারম্যান আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বিশেষ ব্যবস্থায় কলেজশিক্ষক, স্কুলশিক্ষক এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় বাজেটেরও ব্যবস্থা রয়েছে বলে তিনি আমাকে জানিয়েছেন। আমরা বলেছি, আমাদের যে অংশটুকু করার প্রয়োজন, সেটি আমরা দ্রুত সম্পন্ন করে দেবো। এরপর আপনারা যেন অবিলম্বে কার্যকর ভূমিকা নেন।সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, আমরা বড় একটি জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসলাম। এর মাধ্যমে দ্রুতই নতুন শিক্ষক নিয়োগ হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষায় গতি আসবে।সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
