মঈন উদ্দিন খান, কোটচাঁদপুর
গণমাধ্যম কর্মীদের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপর ক্ষোভ প্রকাশ করলেন কোটচাঁদপুরের বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার সকালে একুশে ফ্রেব্রুয়ারির প্রস্তুতি সভা শেষে এ ক্ষোভের কথা জানান নেতারা। জানা যায়, বুধবার সকালে সাব-রেজিস্টারের সঙ্গে দলিল লেখকদের দ্বন্দ্ব হয়। তা নিরশন করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দলিল লেখক ও সাব-রেজিস্টারকে নিয়ে বসেন। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ছাত্র সমন্বয়ক নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি মিমাংসার পর রেজিষ্ট্রি কার্যক্রম শুরু হয় আবার। ওই ঘটনাটি জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে যান আমার সংবাদ কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি মঈন উদ্দীন, আজকের পত্রিকার সুব্রত কুমার,দৈনিক যশোরের মোস্তাফিজুর রহমান। প্রশ্ন করতে তিনি বলেন,ওই ঘটনার ভিকটিম সাবরেজিস্টার। আপনারা ওনার সঙ্গে কথা বলেন। এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নাই। আর কোন মন্তব্য করতেও চাই না। এরপর তিনি সাব- রেজিস্ট্রারকে সাংবাদিকদের ভাল করে খাইয়ে দিতে বলেন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই সাংবাদিকবৃন্দরা। এ বিষয়ে সাংবাদিক মঈন উদ্দীন খান বলেন,ওনার আচারনে আমরা ক্ষুব্দ হয়েছি। আমরা ওনার কাছে তথ্য চাইতে গিয়ে ছিলাম। খেতে যায়নি। ওনি সাব-রেজিস্ট্রারকে খেতে দিতে বলায় আমাদের সম্মানের হানি ঘটিয়েছেন। আমরা ওনার আচারণের নিন্দা জানাচ্ছি। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ছিল একুশে ফেব্রুয়ারি প্রস্তুতি সভা। সভায় উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক,উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা তাজুল ইসলাম, সাবেক পৌর মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি এস কে এম সালাউদ্দিন বুলবুল সিডল, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু বকর বিশ্বাস, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক,উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ, উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি শরিফুল ইসলাম,পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, সাফদারপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, দোড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল, উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদ হোসেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দ্বীন ইসলাম, আবাসিক প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার কুন্ডু, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তানভীর জামান প্রতীক,কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মইন উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বাশার। সভাটি শুরু হয় সকাল ১১ টার দিকে। অনুষ্ঠানে করা হয়নি কোরআন তেলাওয়াত,গীতা পাঠ,ছিল না প্রস্তুতি সভার কোন ব্যানার। সভা শুরুর পর নেতা-কর্মীদের সঙ্গে হযনি কোন পরিচয় পর্ব এমন অভিযোগ করেছেন,বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে প্রথম প্রস্তুতি সভা। সেখানে দুইজন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও একজন সাবেক মেয়র, উপজেলা বিএনপির সভাপতি উপস্থিত হলেও তাদেরকে বসতে বলা হয়নি। আলোচনা করতে দেয়া হয়নি উপস্থিত অতিথিবৃন্দের নাস্তা খেতে দিয়ে খাওয়া শেষ হওয়ার আগেই তিনি প্রস্তুতি সভা থেকে বের হয়ে যান এমন ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতৃবৃন্দরা। তবে ওই সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আনিসুল ইসলাম। তিনি বলেন এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। আমরা সবাই একসঙ্গে নাস্তা খেয়ে একসাথেই বের হয়েছি। সাংবাদিকদের সাবরেজিস্টারকে খেতে দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাব রেজিস্টার তো সাংবাদিকদের আপ্যায়ন করতে পারেন আমি সেই প্রসঙ্গে কথা বলেছিলাম। আমি তেমন খারাপ কিছু বলেনি। হয়তো বোঝার সমস্যা। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল বলেন,তিনি সাংবাদিক যে কথা বলেছেন,সেটা তিনি বলতে পারেন না। হয়তো কোন ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তারপরও আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। এ ছাড়া তিনি সাব-রেজিষ্টার ও নেতা- কর্মীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাও দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

