২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

আজ পবিত্র শবে বরাত

সৈকত হোসেন
আজ পবিত্র শবে বরাত (লাইলাতুল বরাত)। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় আজ দিবাগত রাতে মহান আল্লাহর রহমত কামনায় ‘নফল ইবাদত-বন্দেগীর’ মধ্যদিয়ে পবিত্র শবে বরাত উদযাপন করবেন। মুসলমানরা হিজরি বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে থাকেন। মহিমান্বিত এ রাতে মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর বান্দাদের ভাগ্য নির্ধারণ করেন। ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা এ রাতে মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজগারসহ বিভিন্ন ইবাদত বন্দেগী করে থাকেন। শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে পালিত হয় পবিত্র শবেবরাত। সে অনুযায়ী আজ (শুক্রবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। পবিত্র শাবান মাসের ফজিলতপূর্ণ রাত, ‘লাইলাতুল বারাআত’। লাইলাতুল বারাআত আরবি শব্দ, ফারসিতে বলা হয়, ‘শবেবরাত’। ‘শব’ অর্থ রাত, আর ‘বরাত’ অর্থ ভাগ্য, মুক্তি, নিষ্কৃতি, অব্যাহতি, পবিত্রতা ইত্যাদি। সুতরাং শবে বরাতের শাব্দিক অর্থ দাঁড়ায়- মুক্তি, নিষ্কৃতি ও অব্যাহতির রজনী। সেই হিসেবে ‘শবেবরাতের’ আভিধানিক অর্থ ভাগ্যরজনি। এ রাতে যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা পাপী লোকদের ক্ষমা করেন, নিষ্কৃতি দেন ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন, সেহেতু এ রাতকে লাইলাতুল বারাআত বা শবে বরাত বলা অযৌক্তিক নয়। পবিত্র কুরআনে এ রাতকে ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ্’, বরকতময় রজনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিস শরিফে রসুল (স) এ মহিমান্বিত রাতকে ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান’,শাবান মাসের মধ্যরজনি বলে উল্লেখ করেছেন। পবিত্র এ রাতকে কেন্দ্র করে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।
এ রাতে মহান আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভের আশায় সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটান। মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় এবাদত-বন্দেগীর মধ্য দিয়ে এই রাতটি অতিবাহিত করবেন। মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্বের মুসলমানগণ বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করবেন। এ রজনীতে সারাদেশে নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মুসলমানগণ কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকবেন। এ উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষরা নফল রোজাও পালন করবেন। বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে সারা রাত চলবে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল, অন্যান্য এবাদত-বন্দেগী ও মোনাজাত।
রাতব্যাপী এবাদত, বন্দেগী, জিকির ছাড়াও এই পবিত্র রাতে মুসলমানগণ মৃত পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনসহ প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করে থাকেন। তাই এ রাতে কবরস্থানগুলোতেও মুসল্লীদের উপচেপড়া ভিড় হয়। এদিন সবার ঘরে ভালো-ভালো খাবার রান্না করা হয়। এসবের মধ্যে রয়েছে রুটি, বিভিন্ন রুচির হালুয়া ও মিষ্টান্ন। প্রতিবেশিদের মধ্যে এসব খাবার বিতরণ ও পরিবেশন করা হয়। এতে সামাজিক হৃদ্যতা ও সৌহাদ্যের সম্পর্ক গড়ে উঠে বলে স্থানীয় মুসলিমগণ বিশ্বাস করে থাকেন। গরীব-দুঃখিদের মধ্যেও খাবার বিতরণ ও অর্থ দান করা হয়। মহিমান্বিত এ রজনী ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালনের লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে ওয়াজ মাহফিল, কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, হামদ্, না’ত, নফল ও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় এবং আখেরী মোনাজাত। পবিত্র এ রাতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সকল মসজিদ সারা রাত খোলা থাকবে। এ রাতের বিশেষ অনুষঙ্গ কবর জিয়ারতের পাশাপাশি মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতিতে মসজিদে মসজিদে এশার নামাজের পর থেকেই দফায় দফায় ওয়াজ মাহফিল, জিকির ও মিলাদের পর বাদ ফজর দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর রহমত কামনায় মোনাজাতের মধ্য দিয়ে পবিত্র শবে বরাত তথা লাইলাতুল বরাতের সমাপ্তি হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়