২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

অতিবিরল চিত্রা শালিক

প্রতিদিনের ডেস্ক॥
চরটির ঘাস-মাটিতে চরছে চারটি চঞ্চল পাখি। হেঁটে ও লম্ফঝম্ফ করে ঘাস-ঝোপঝাড় ও মাটি থেকে খাবার সংগ্রহ করছে ও খেয়ে নিচ্ছে। বেশ একটা তাড়াহুড়ো লক্ষ করা যাচ্ছে ওগুলোর মধ্যে। অনেকটাই নেচে নেচে হাঁটছে, চোখের চাহনিতে একটা ভয় ভয় ভাব ফুটে আছে। সন্দেহভরা দুটি চোখ। এদের চোখের চাহনি প্রাকৃতিকভাবেই এ রকম। এদের খাদ্যতালিকায় আছে নানান রকম শস্যদানা, পোকামাকড়, কেঁচো ও কেঁচোজাতীয় প্রাণী, শুঁয়োপোকা ইত্যাদি। তরুণ বন্য প্রাণী আলোকচিত্রী তিমু হোসেন ৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের বালাকি চরে গিয়ে পাখি চারটিকে দেখতে পান। অতিবিরল পাখি চারটিকে দেখেই তিনি চিনতে পারেন ও ছবি তোলার জন্য নিজেকে লুকিয়ে ক্রল করেন। দারুণ একটা উত্তেজনা কাজ করছিল তাঁর বুকের ভেতর। এই পাখি ক্বচিৎ দেখা যায় বাংলাদেশে, দেখার নজিরও খুব বেশি নেই। পাখি চারটি কতটা চতুর, সতর্ক ও পলায়নপর, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় তিনি দ্বিধায় ছিলেন। যদি উড়ে পালায়! তাহলে আবার কবে কোথায় দেখতে পাবেন, সেটাও একেবারেই অনিশ্চিত। অবশেষে উড়ন্ত ও একটি গাছের মাথায় বসা অবস্থায় এক ফ্রেমে দুটি ছবিসহ বেশ কয়েকটি ছবি তুলতে পারলেন। পাখিগুলোর নাম চিত্রা শালিক। অর্থাৎ চিত্রবিচিত্র রঙের শরীর এদের। শীতে পাখিটির রং খোলে। দেখতে লাগে খুব সুন্দর। ঘাড়-গলা-বুক-পেটে সুবিন্যস্ত ও সারিবদ্ধভাবে সাদা সাদা ফোঁটা বা চিতি থাকে। মনে হয় নিপুণ শিল্পীর অনুপম চিত্রকর্ম। সাদা ফোঁটাগুলোর ঘনবদ্ধতার জন্য খুব সুন্দর দেখায় পাখিটিকে। শীতেই পিঠ-ঘাড় বাফ-বাদামি। পা গোলাপি, ঠোঁট ধূসরাভ। শীতের বাইরে প্রজনন মৌসুমে পাখিটির ঠোঁট থাকে হলুদ, পা কালচে বাদামি। চোখা ও ধারালো ঠোঁটটি বেশ লম্বা। শীতকালেই চিত্রা শালিকদের দেখা যায় বাংলাদেশে, তবে ক্বচিৎ। সব বছর দেখা মেলে না। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কয়েকবার এবং কোথায় কোথায় এ পাখি দেখা গেছে, তা হয়তো আঙুলে গুনে বলা যাবে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, সন্দ্বীপ, সুন্দরবনের চরসহ ঢাকা বিভাগে দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা যায়। বাংলাদেশে এদের দেখা যায় দু-চারটি করে, কিন্তু যেসব দেশে ডিম-ছানা তোলে ওরা, সে দেশগুলোতে এরা ছোট-বড় ঝাঁকে থাকে, প্রায়ই অন্য পাখিদের সঙ্গে মিলেমিশে চরে। চিত্রা শালিকের ইংরেজি নাম কমন স্টার্লিং। বৈজ্ঞানিক নাম Sturnus vulgaris। দৈর্ঘ্য ২০ সেন্টিমিটার।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়