১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

দাবানল নিয়ন্ত্রণে লড়াই করছে দক্ষিণ কোরিয়া

প্রতিদিনের ডেস্ক
দক্ষিণ কোরিয়ায় ভয়াবহ দাবানলের আবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়া ও বাতাস সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলগুলোর মধ্যে একটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে। মঙ্গলবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এই তথ্য। চলতি সপ্তাহে এক ডজনেরও বেশি বিভিন্ন ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
নিরাপত্তামন্ত্রী জানিয়েছেন, হাজার হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে, হাজার হাজার লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং চারজন নিহত হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তামন্ত্রী কো কি-ডং বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত দাবানলে প্রায় ১৪ হাজার ৬৯৪ হেক্টর (৩৬ হাজার ৩১০ একর) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি ক্রমে বাড়ছে।’ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণে দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম দাবানল হবে এটি। এর আগে সবচেয়ে বড় দাবানল ছিল ২০০০ সালের এপ্রিলে, যা পূর্ব উপকূলজুড়ে ২৩ হাজার ৯১৩ হেক্টর (৫৯ হাজার ০৯০ একর) পুড়ে গিয়েছিল। ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তা মন্ত্রী কো কি-ডং একটি দুর্যোগ ও নিরাপত্তা সভায় বলেন, ৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। কমপক্ষে ১১ জন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছে। তীব্র বাতাস, শুষ্ক আবহাওয়া এবং কুয়াশা অগ্নিনির্বাপণ প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ১১০টি হেলিকপ্টার এবং ৬ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি কর্মী মোতায়েন করা হবে। এএফপির সাংবাদিকরা উইসংয়ের আকাশ ধোঁয়া এবং কুয়াশায় ভরে গেছে বলে জানান। স্থানীয় একটি মন্দিরের কর্মীরা সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে রক্ষায় ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো সরানোর এবং বুদ্ধ মূর্তিগুলোকে ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।  কোরিয়া বন পরিষেবা জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল নাগাদ উইসংয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের হার ৬০ থেকে ৫৫ শতাংশে নেমে এসেছে। স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের মতে, দাবানল মোকাবেলায় ৬ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, যার প্রায় দুই-পঞ্চমাংশ কর্মী উইসংয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকার ‘সারা দেশে একযোগে দাবানলের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির’ কথা উল্লেখ করে চারটি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

সূত্র : এএফপি

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়