প্রতিদিনের ডেস্ক:
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে ভারতের বিমান হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারত-শাসিত জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, “এই অঞ্চলের কেউই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চায় না, তবে ‘বন্দুক নামানোর’ দায়িত্ব ইসলামাবাদের।”আবদুল্লাহের মতে, ভারত সরকার গত মাসে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার পিছনে যারা ছিল তাদের ‘যথাযথ জবাব’ দেওয়ার জন্য ‘সঠিক পদ্ধতি’ বেছে নিয়েছে।সীমান্তে গোলাবর্ষণ প্রসঙ্গে বার্তা সংস্থা এনএনআইকে আবদুল্লাহ আরো বলেন, “ভারত কেবল পাকিস্তানের সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, সামরিক এলাকা বা বেসামরিক নাগরিকদের নয়। কিন্তু পাকিস্তান জম্মু-কাশ্মীরের কিছু এলাকায় বোমা হামলা করেছে এবং এতে আমাদের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।”মুখ্যমন্ত্রী এই অঞ্চলের জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।”তিনি বলেন, “তাদের (বাসিন্দাদের) এখান থেকে পালাতে হবে না। এই অঞ্চলে সংকট মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।”ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্রোয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস এবং নরওয়ে সফর স্থগিত করেছেন। ভারতের একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।সিএনএন বলছে, সফর পিছিয়ে দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি। তবে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে নয়াদিল্লির হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টাই পরেই এই ঘোষণা এসেছে।ভারতের প্রতিবেশী দেশটির উপর সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে মোদি প্রকাশ্যে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।ভারতের বিমান হামলায় পরিবারের ১০ সদস্য হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহার। জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীর তালিকায় স্থান পাওয়া মাসুদ আজহার বিবিসিকে জানান, পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে সুবহানআল্লাহ মসজিদে ভারতের হামলায় তার পরিবারের ১০ সদস্যকে হারিয়েছেন। বুধবার জেইএম থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে মাসুদ আজহারে বড় বোন ও তার স্বামী, তার ভাগ্নে ও তার স্ত্রী, এক ভাগ্নি এবং তার পরিবারের পাঁচ সন্তান রয়েছে।বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, এই হামলায় আজহারের তিন ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাদের একজনের মা নিহত হয়েছেন।২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জইশ-ই-মোহাম্মদ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় যাতে ৪০ জন সেনা নিহত হন। ভারতের বিমান হামলার প্রতিবাদে দেশটির চার্জ ডি’ অ্যাফেয়ার্স গীতিকা শ্রীবাস্তবকে তলব করেছে পাকিস্তান। খবর বিবিসির। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “পাকিস্তান এবং আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের একাধিক স্থানে বিনা উস্কানিতে ভারতীয় হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।’বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই হামলায় নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন।”এতে আরো বলা হয়েছে, “ভারতের এই পদক্ষেপ ‘পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন।”পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেছেন, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ভারতীয় বিমান হামলা ও গুলিবর্ষণে ২৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৬ জন। এদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনী এক ব্রিফিংয়ে দাবি করেছে, তাদের কাছে ‘পাকিস্তানে বেসামরিক হতাহতের কোনো খবর নেই’।পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর পর ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি তাদের জন্য গর্বিত।ভারত মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তানের যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে, তার নাম দিয়েছে “সিঁদুর’। এ বিষয়ে তিনি লিখেছেন, “পহেলগামে আমাদের নিরীহ ভাইদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের” প্রতিক্রিয়া হলো ‘অপারেশন সিঁদুর।”তিনি বলেন, “ভারত এবং এর জনগণের ওপর যেকোনো আক্রমণের উপযুক্ত জবাব দিতে মোদি সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”অমিত শাহ আরো লেখেন, “ভারত সন্ত্রাসবাদকে তার মূল থেকে নির্মূল করার জন্য দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক অভিযানকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারত-পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উভয় দেশকে ‘শান্ত’ থাকতে, সংযম প্রদর্শন করতে এবং পরিস্থিতি আরো জটিল করতে পারে এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পুরো বিশ্বকে সন্ত্রাসবাদের প্রতি শূন্য সহনশীলতা দেখাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ‘অপারশেন সিঁদুর’ এর একটি পোস্টার এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করে তিনি এ মন্তব্য করেন। পাকিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর ঘটনায় সমর্থন জানিয়েছেন ভারতের বিরোধী নেতা। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রধান মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, “জাতীয় ঐক্য ও সংহতি এখন সময়ের দাবি।”ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পহেলগামে ২২ এপ্রিল সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন ২৬ জন। এ ঘটনার পর থেকেই তার দল সীমান্ত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সশস্ত্র বাহিনী এবং সরকারের পাশে আছে বলে জানিছেন মল্লিকার্জুন। পাকিস্তানিদের ‘ব্যর্থ জাতি’ বলে অভিহিত করে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রধান এবং ভারতের হায়দ্রাবাদের সংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এ হামালকে সমর্থন জানিয়েছেন। আশঙ্কাকে সত্যি করে দিয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ভারত। ‘অপারেশন সিদুঁর’ নামের এই সামরিক অভিযানের আওতায় পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ভারত। গভীর রাতে ভারতের এই হামলাকে কাপুরুষের কাজ হিসেবে বর্ণনা করে এর কড়া জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রীর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ তার জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক ডেকেছেন।মঙ্গলবার গভীর রাতে, ভারত পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নয়টি স্থানে হামলা চালিয়েছে। দিল্লি বলেছে, যে পহেলগামে জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। ভারতের হামলায় পাকিস্তানে শিশুসহ অন্তত ৮ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। পাকিস্তান বলেছে, তারা তাদের পছন্দের স্থান এবং সময়ে এর জবাব দেবে।

