৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক

দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে এবং দাবি আদায়ে রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে নামারও হুমকি দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য। গত বৃহস্পতিবার জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত নিক্কেই ফোরামের সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘ডিসেম্বরে নির্বাচন দেওয়া নিয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলই বলছে, সব দল নয়।’ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুধীসমাজের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, তাঁর এই বক্তব্য সত্যের অপলাপ মাত্র। তিনি কেন এমন বক্তব্য দিলেন, তা বোধগম্য নয়। এমন বক্তব্য রাজনৈতিক দলগুলোকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিপক্ষ করে তুলবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রতিবাদ করা হয়েছে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্যতম নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যায়িত করে বলেন, সিপিবি ও বাম গণতান্ত্রিক জোট অনেক আগেই বলেছে, এই বছরের মধ্যে আমরা নির্বাচিত সরকার দেখতে চাই। বিএনপি ও তাদের সমমনা ৪২টি দলের দাবি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন। অর্ধশতাধিক দল এই বছরের মধ্যে নির্বাচন চায়। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম সংগঠক সাইফুল হক বলেন, দেশের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দাবি করেছে। তিনি আরো বলেন, প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে বিএনপিকে টার্গেট করা হয়েছে এবং বহু ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের দূরত্ব আরো বাড়বে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শত্রুতামূলক সম্পর্ক সৃষ্টি করবে। দুটি পক্ষকে মুখোমুখি দাঁড় করাবে।’ এর আগে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই হওয়া উচিত। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থাও দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার জন্য তাগাদা দিয়ে যাচ্ছে। তার পরও প্রধান উপদেষ্টার এ ধরনের বক্তব্য জাতিকে আরো বেশি প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে জিয়াউর রহমান শাহাদাতবরণ করেছেন, সেই গণতন্ত্রের নিরবচ্ছিন্ন যাত্রা আজও পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও আধুনিক স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকার’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও বক্তব্যে তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগির বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা দেখা যাবে। একই অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আগামী ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় নির্বাচন দেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, এই সরকার ১০ মাসেও জাতীয় নির্বাচনের তারিখ দেয়নি। ফলে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত। শিল্প-কারখানা ধুঁকছে। নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। বেকারত্ব দ্রুত বাড়ছে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি চরম পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজনীতি যদি সংঘাতপূর্ণ হয়ে ওঠে, তাহলে তা কারো জন্যই সুখকর হবে না। আমরা চাই, দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে দ্রুত নির্বাচনের আয়োজন করা হোক।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়