১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

কালীগঞ্জে বেদবতী নদীতে ব্রিজ নির্মাণে বাঁধ ৫০ গ্রাম পানিবন্দী : ফসল পানির নিচে

সোহেল আহমেদ, কালীগঞ্জ
বেগবতী নদীর উপর সেতু নির্মাণে ধীরগতি ও নদী বাঁধে বিকল্প রাস্তা করায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার অন্তত ৫০ গ্রাম পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। জেলার সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলার অন্তত ছোট-বড় ১০টি বিল ও খালের পানি আটকে গেছে বেগবতী নদীতে। ফলে হাজার হাজার হেক্টর ধানী জমি সহ অন্যান্য ফসল পানিতে ডুবে গেছে। ব্যাগবতী নদী বেধে ছোট করে ডাইবারশন রাস্তাটি অপসারণ করে পুনরায় নদীর উপর উঁচু করে বিকল্প রাস্তা তৈরি করার দাবিতে মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভ করেছে কৃষকরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ও মহারাজপুর ইউনিয়ন ও কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর দূর্গাপুর ইউনিয়নের মাঠের পর মাঠ পানিতে থই থই করছে। পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধানের ক্ষেত সহ অন্যান্য ফসলের জমি।
কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা বাজারে সেতু নির্মাণের জন্য ডাইভারসন বাঁধ দেওয়া হয়েছে। নদীর পানি বের হওয়ার জন্য ডাইভারসন বাঁধে রাখা হয়েছে মাত্র ৩৫ ফুট চওড়া জায়গা। দেয়া হয়েছে কাঠের সেতু। কয়েক দিনের বর্ষায় পানির তীব্র স্রোত ও চাপ সৃষ্টি হলে যেকোনো সময় কাঠের সেতুটি ভেসে যেতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। তবে নদীর বুকে ডাইভারসন বাঁধের কারণে প্রবাহমান বেগবতীর উজানে ফুলে উঠেছে পানির স্তর। যার প্রভাবে নদীর সাভাবিক স্রোত বইছে না। ফলে নদী তীরবর্তী ফসলের মাঠ ও খাল-বিলের পানি ফসলের মাঠে আটকে আছে দিনের পর দিন। এতে সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলার গান্না, হরিপুর, মহারাজপুর, কুলবাড়িয়া, ভাদালডাঙ্গা, বেতাই, কুঠিদুর্গাপুর, ডেফলবাড়ি, বিষয়খালী, কেশবপুর,সুন্দরপুরসহ অন্তত ৫০ টি গ্রামের ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। সুন্দরপুর দূর্গাপুর গ্রামের কৃষক বিল্লাহ হোসেন বলেন, বিলের পানি নদীতে গেলেও নদীর পানি বইছে ধীরে ধীরে। বেগবতী নদীতে কোলা বাজারে ব্রিজ করার কারণে নদীতে বাঁধ দিয়েছে ঠিকাদাররা। যে কারণে নদী দিয়ে পানি নামছে না। আমরা ধান লাগিয়ে বিপাকে পড়েছি। পানিতে ধান তলিয়ে গেছে। জমিতে গলা সমান পানি। এই বিল ও বিল ঘেঁসা মাঠগুলোতে বোরো মৌসুমে অন্তত আড়াই থেকে তিন হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়। কিন্তু এবছর বিলে জমা বৃষ্টির পানি বেগবতী নদী দিয়ে বের হতে পারছে না। কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের কোলা বাজারে নির্মাণাধীন সেতুর ডাইভারসন বাঁধের কারণে নদীর স্রোত ও স্বাভাবিক পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিলের পানি কমছে না। সুন্দরপুর দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইলিয়াস রহমান মিঠু বলেন,মাঠে জমে থাকা পানি খালের মাধ্যমে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারলে কৃষকরা বেঁচে যাবে। ব্যাপারটি নিয়ে আমরা ইউএনও এবং উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর দ্বারস্থ হয়েছিলাম। গত ২৮ জুলাই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন উপজেলা প্রশাসন কিন্তু পট কচুরিপনা পরিস্কারের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ আছে,কাজের কাজ কিছু হয়নি। অতিদ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে কৃষকরা মারাত্বভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। মহারাজপুর কৃষক সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপক ইউনুস আলী বলেন, বিলের পানি আগে সিরিসকাঠ খাল দিয়ে বের হয়ে বেগবতী নদীতে গিয়ে পড়তো। এখন খাল দিয়ে পানি কিছুটা নামলেও নদীতে বাঁধ দেয়া হয়েছে দুই/তিন জায়গায়। বিলের পানি বের হওয়ার জন্য সাময়িক ভাবে নদীর বাঁধ তুলে দেয়ার বিকল্প নেই। কৃষকের কষ্ট আর দেখা যাচ্ছে না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মিজানুর রহমান কনস্ট্রাকশনের ম্যানেজার আব্দুল খালেক ওরফে আলেক বলেন, নদীতে ডাইভারসন করা হলেও পানি বের হওয়ার জায়গা আছে। তবে পানি একটু কম বের হচ্ছে। ধান যেমন লাগবে, ব্রিজও তো লাগবে। প্রবাহমান নদীতে ডাইভারসন বাঁধ নির্মাণের নির্দেশনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ৪০ ফুট চওড়া কাঠের ব্রিজ বানানো হয়েছে। যার নিচ দিয়ে পানি বের হচ্ছে। কিন্তু নদীর প্রস্থ প্রায় দেড়শ ফুট। পানি বের হওয়ার জায়গা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেদারুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা নদীর ডাইভারশন বাঁধ সম্প্রসারণের জন্য দাবি জানিয়েছেন। আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ঠদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। দ্রুতই সমাধান হবে বলে আশা করছি।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়