১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

সড়ক-মহাসড়কের করুণ দশা

দেশের বেশির ভাগ সড়ক-মহাসড়কের অবস্থাই অত্যন্ত নাজুক। প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হচ্ছে, কিন্তু অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। অনেক সড়কেই রীতিমতো খানাখন্দক হয়ে আছে। বর্ষায় সেগুলোতে পানি জমে থাকে।সড়কের এমন করুণ দশার কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। যানবাহনের ক্ষতি তো আছেই। গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের বিশ্বরোড মোড়ে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ট্রাক মহাসড়কের গর্তে আটকে যায়। একটি উদ্ধারের পরপরই আরেকটি ট্রাক গর্তে আটকে যায়।ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। শুধু ট্রাক নয়, অন্যান্য গাড়িও আটকে যায়, উল্টে যায়। ১৫ আগস্ট খুব ভোরে মহাসড়কে আটকে যাওয়া দুটি মাইক্রোবাসে ডাকাতির ঘটনাও ঘটেছে।ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩৪ কিলোমিটার অংশে প্রতিনিয়ত এমন ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রী ও মালপত্র পরিবহনে।
ভাঙা সড়ক, যানজটের সঙ্গে এখন ডাকাত আতঙ্ক প্রায় নিয়মিত হয়ে দেখা দিয়েছে। মহাসড়কের কিছু অংশের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া আখাউড়া-চান্দুরা সড়কেরও করুণ দশা। ওই সড়কের চান্দুরা থেকে চম্পকনগর পর্যন্ত অবস্থা এতটাই খারাপ যে বড় ধরনের কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে এ সড়কে বাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় চান্দুরা হয়ে আখাউড়া দিয়ে সুলতানপুরে গিয়ে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে উঠত যানবাহন।অর্থাৎ সিলেট থেকে কুমিল্লা কিংবা চট্টগ্রামে যাওয়ার যানবাহন যানজট ও ভাঙা সড়ক এড়াতে পারত বিকল্প ওই সড়ক ব্যবহার করে। এখন তা-ও সম্ভব হচ্ছে না। চার মাস ধরে চলছে এই দুরবস্থা।
গতকাল প্রকাশিত অন্য একটি প্রতিবেদনে রাজধানীর গুলশান-বারিধারা-ভাটারা সংযোগের মাদানী এভিনিউ বা ১০০ ফুট সড়কের কঠিন দুর্ভোগের চিত্র উঠে এসেছে। ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের আওতায় গভীর গর্ত করে ছয় ফুট ব্যাসের দুটি পাইপ বসানো হয়েছে। এর পর থেকেই সংস্কারকাজে গড়িমসি চলছে। সড়কটির প্রায় পুরোটাই খানাখন্দে ভরা। তার মধ্যেও বাধ্য হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে মানুষকে। শুধু এই একটি সড়কই নয়, ঢাকা মহানগরীর আরো অনেক সড়কেরই করুণ দশা। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনাসহ আরো অনেক শহরেরই প্রায় একই অবস্থা। কোথাও কোথাও অবস্থা আরো খারাপ। সর্বত্রই মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।
আমরা আশা করি, সড়ক-মহাসড়কগুলো চলাচলের উপযোগী রাখতে এবং মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়