বেড়েছে দরিদ্র ও অতিদরিদ্রের সংখ্যা

পৃথিবী এগিয়ে চলেছে। আমাদের আশপাশের অনেক দেশও অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আমরা কি তার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছি? আন্তর্জাতিক নানা সূচকে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। জাতীয়ভাবে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণার ফলাফলও ভিন্ন কথা বলছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, তিন বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৭.৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে। অতিদারিদ্র্যের হারও অনেক বেড়েছে, দ্বিগুণের কাছাকাছি চলে গেছে। বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) এক জাতীয় পর্যায়ের গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
দেশে দরিদ্র এবং অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।
শুধু তা-ই নয়, একটি বড় জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে আসার ঝুঁকিতে রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ১৮ শতাংশ মানুষ এমন অবস্থায় আছে, যেকোনো সময় তারা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাতারে চলে আসতে পারে। গত সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে ‘ইকোনমিক ডাইনামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউসহোল্ড লেভেল ইন মিড ২০২৫’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি জানান, মে মাসে দেশের আট হাজার ৬৭টি পরিবারের ৩৩ হাজারের বেশি মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এ গবেষণা পরিচালিত হয়, যার অর্থায়ন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামের তুলনায় শহরের পরিবারগুলো বেশি চাপে রয়েছে। ২০২২ সালে শহরের পরিবারের মাসিক গড় আয় ছিল ৪৫ হাজার ৫৭৮ টাকা। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৫৭৮ টাকায়। অথচ ব্যয় বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৯৬১ টাকায়। অর্থাৎ শহরে আয় কমলেও খরচ বেড়েছে।
অন্যদিকে গ্রামের পরিবারে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ২০২২ সালে যেখানে মাসিক গড় আয় ছিল ২৬ হাজার ১৬৩ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ২৯ হাজার ২০৫ টাকা। পরিবারের খরচের বড় অংশই চলে যাচ্ছে খাবারের পেছনে। গবেষণা বলছে, একটি পরিবারের মাসিক খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশ ব্যয় হয় শুধু খাদ্যে।হোসেন জিল্লুর রহমান যথার্থই বলেছেন, শুধু জিডিপি নিয়ে আলোচনা করলে চলবে না, এখন অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীনতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় পাঁচটি নতুন ঝুঁকিকে বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। সেগুলো হলো দীর্ঘস্থায়ী রোগের বাড়তি চাপ, নারীপ্রধান পরিবারের দারিদ্র্য, ঋণের বোঝা বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও নিরাপদ স্যানিটেশনের ঘাটতি। তিনি সতর্ক করেন, দেশে এখন কর্মসংস্থানের এক ধরনের সংকট বা ‘বেকারত্বের দুর্যোগ’ তৈরি হয়েছে।
দেশে দরিদ্র ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠী বৃদ্ধি পাবে, আমাদের অধোগতি হবে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ও অনুপাত কমিয়ে আনাই হতে হবে অর্থনৈতিক পরিকল্পনার লক্ষ্য।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়