জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র পাঁচ মাস বাকি। সেই নির্বাচনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ দেশের অবনতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। খুনখারাবি, রাহাজানি, লুটতরাজ, মব ভায়োলেন্স, দাঙ্গা-হাঙ্গামা লেগেই আছে। এর ওপর শুরু হয়েছে পরিকল্পিত রাজনৈতিক ও সামাজিক সন্ত্রাস।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবারও হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। হামলার জন্য গণ অধিকার পরিষদকে দায়ী করেছে জাতীয় পার্টি। অবশ্য গণ অধিকার পরিষদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।অন্যদিকে শুক্রবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার কবর অবমাননা ও মরদেহ তুলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এক বিবৃতিতে একে অমানবিক ও জঘন্যতম অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে সরকার বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের মূল্যবোধ, আইন এবং সভ্য সমাজব্যবস্থার প্রতি সরাসরি আঘাত। বিবৃতিতে সরকার জানিয়েছে, এ ধরনের বর্বরতা কোনো অবস্থায়ই সহ্য করা হবে না। জীবিত ও মৃত—সবার মর্যাদা রক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।জানা যায়, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গতকাল পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ১৪ দল নিষিদ্ধের দাবিতে গণ অধিকার পরিষদ সংহতি সমাবেশ করে। শাহবাগের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিছিল নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি গণ অধিকার পরিষদের প্রধান কার্যালয়ের সামনে যাওয়ার পর মিছিলের একটি অংশ থেকে কিছু লোক পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে।
এর পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়। ভবনের নিচতলা থেকে পাঁচতলা পর্যন্ত ভাঙচুর করা হয়েছে। ভাঙচুরের পর সংক্ষুব্ধরা আগুন ধরিয়ে দেয়। এর আগে গত ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় আরেক দফা হামলা হয়েছিল জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে।
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে এহেন হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যাশা পূরণে জনমনে বিভ্রান্তি ও হতাশা সৃষ্টি করবে।
জানা যায়, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার খানকায় বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা ও মরদেহে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। এ সময় তাদের বাধা দিতে দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় অন্তত একজন নিহত ও শতাধিক লোক আহত হয়। প্রায় একই রকম ঘটনা ঘটে রাজশাহীতে। সেখানেও বিক্ষুব্ধ জনতা একটি খানকা শরিফে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে।
বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। এখানে যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন মত ও পথের অনুসারীরা শান্তিতে তাদের বিশ্বাস ও আদর্শের চর্চা করে এসেছে। এভাবে কারো ওপর বল প্রয়োগ কোনোভাবেই কাম্য নয়। আবার অনেকেই মনে করছে, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র থেকেও পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হতে পারে। আমরা চাই, সরকার কঠোর হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করুক।

