১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

অতিরিক্ত ভারী মালবাহি যানবাহনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে যশোর-সাতক্ষীরা ভায়া মণিরামপুর মহাসড়ক

জি এম ফারুক আলম, মণিরামপুর
বৈদ্যুতিক খুঁটিবাহি ভারি যানবাহনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রাজারহাট-চুকনগর মহাসড়কটি। প্রায় সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মহাসড়কটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়ছে। এই মাহসড়কের যশোরের মনিরামপুর পৌরশহরের নির্মিত কংক্রিটের সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে যানবাহন চলাচল খুবই ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানাযায়, দেশে জাতীয় মহাসড়ক ৬৭, আঞ্চলিক মহাসড়ক ১২১ এবং জেলা সড়কের সংখ্যা ৬৩৩। এরমধ্যে ২০২০ সালের ২০ জুলাই চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে রাজারহাট-চুকনগর আঞ্চরিক মহাসড়ক প্রশস্তকরনের কাজের কার্যদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তিতে ধাপে ধাপে ব্যয় বেড়ে প্রায় সাড়ে তিনশ’ কোটিতে দাড়ায়। ৩৮ কিলোমিটার এই মহাসড়কের প্রশস্ততা ৫.৫ মিটার হতে ১৩.৩ মিটারে উন্নীত করা হয়। যার মেয়াদ পরবর্তি ১৭ মাসের মধ্যে ধার্য্য ছিল। কিন্তুমহাসড়কের দুইধারে গাছ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গাছ কাটা জটিলতায় নির্মান কাজ শেষ হতে ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ লেগে যায়। সাতক্ষীরা ভোমরা ও বেনাপোল স্থল বন্দরের কারনে মহাসড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় যানবাহন চলাচল বেড়ে যায়। সম্প্রতি যশোর-খুলনা মহাসড়কটি অচলাবস্থা হওয়ায় এই মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল আরও বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। একদিকে এই অঞ্চলে অতিবৃষ্টি এবং ভারি যানবাহন চলায় উদ্বোধনের বছর পার না হতেই মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হতে শুরু করে। যপবিস-২ (যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২)-এর সদর দপ্তর মনিরামপুরে হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে ১০ থেকে ২০ চাকার ভারি যানবাহনে বৈদ্যুতিক খুঁটি আনা হচ্ছে। এক্ষেত্রে মহাসড়কের বিধিমালা উপেক্ষিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সওজ (সড়ক ও জনপদ বিভাগ) যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় হতে মহাসড়কে যানচলাচল নিয়ন্ত্রনে ‘মোটরযানের এক্সল লোড নিয়ন্ত্রন সংক্রান্ত’ একটি গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে ২ এক্সেল ৬ চাকার যানবাহন সর্বোচ্চ ২২ টন, ৩ এক্সেল ১০ চাকা সর্বোচ্চ ৩০ টন, ৪ এক্সেল ১৪ চাকার সর্বোচ্চ ৪০ টন,৫ এক্সেল ১৮ চাকার সর্বোচ্চ ৪৭ টন, ৬ এক্সেল ২২ চাকার সর্বোচ্চ ৪৯ টন এবং ৭ এক্সেল ২৬ চাকা সর্বোচ্চ ৫২টন মালামাল পরিবহন করতে পারবে। কিন্তু যপবিস-২ এর জন্য আনা বৈদ্যুতিক খুঁটিবাহি যানবাহনে এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হচ্ছে। অবশ্য এই নিয়ন্ত্রিত এক্সেল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এটিকে আরও খাটছাট করে যানবাহন নিয়ন্ত্রনের দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে যপবিস-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মোঃ হাদি উজ্জামান বলেন, পোল পরিবহনের বিষয়টি তাদের হাতে নেই। এটি আরইবি (পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড) দেখভাল করে। সরেজমিন ৫০টি বৈদ্যুতিক (যার ওজন ৩৫ থেকে ৪০ টন) খুঁটি ১০ চাকার ট্রাকে লোড অবস্থায় মহাসড়কে চোখে পড়ে। এসময় ট্রাকচালক মিলন বলেন, তিনি ৪০ টনের পাথর নিয়ে ট্রাক চললেও কেউ কথা বলেন না। জানতে চাইলে সওজ যশোরের অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহবুব হায়দার খান বলেন, মোটরযানের এক্সল লোড নিয়ন্ত্রন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনেকেই মানছেন না বলে তারা শুনতে পারছেন। কিন্তু লোকবল সংকটে নজরদারি করা যাচ্ছে না।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়