১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষার আকুতি পাটকেলঘাটায় সংবাদ সম্মেলন

আলমগীর হোসেন, পাটকেলঘাটা
আমার পৈতৃক ভিটায় বালু ফেলতে গিয়ে কেন চাঁদা দিব? বৃদ্ধা মা আর বোনকে নিয়ে যেখানে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে বসবাস করছি, সেখানে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে আমি আজ চরম অসহায়।-কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই নিজের অসহায়তার কথা তুলে ধরলেন তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা সরুলিয়া ইউনিয়নের যুগিপুকুর গ্রামের বাসিন্দা বাপ্পি সাধু। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে নিজের ভোগান্তির কাহিনি বর্ণনা করেন। বাপ্পি সাধু জানান, তিনি পৈতৃক ভিটায় (শাকদাহ মৌজা, এসএ ৩৬৩, দাগ নং ১৮০৫, জমি ৩৩ শতক) বহুদিন ধরে বসবাস করছেন। জায়গাটি নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে যায়। সেই পানি থেকে রক্ষা পেতে গত কয়েক দিন ধরে তিনি ভিটায় বালি ভরাট শুরু করেন। একই সঙ্গে বাড়ির প্রবেশপথে সুবিধার্থে ড্রেনের পাশে বালি ফেলছিলেন। কিন্তু এখানেই ঘটে বিপত্তি। স্থানীয় চিহ্নিত চাঁদাবাজ গোলাম হোসেনের নেতৃত্বে বিল্লাল, মজিদ, সেলিম ও মোস্তফা গং এসে জোর করে কাজ বন্ধ করে দেয়। তাদের দাবি, ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দিলে ভরাটকাজ চলবে না, বরং ইতিমধ্যেই ফেলা বালুও উঠিয়ে নিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে বাপ্পি সাধু বলেন, আমি বিষয়টি পাটকেলঘাটা থানা পুলিশকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলাম। থানার সেকেন্ড অফিসার কাশেক মুন্সি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও স্থানীয় গণ্যমান্যদের সহযোগিতায় মীমাংসার পরামর্শ দিয়েই চলে যান। কিন্তু অভিযুক্তরা এখনো হুমকি দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমার মতো সাধারণ একজন মানুষ, বৃদ্ধা মা আর বোনকে নিয়ে দিনযাপন করছি। এখানে বসতবাড়ি রক্ষার জন্য যে বালি ফেলছি, তার জন্য কেন আমাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হবে? সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে আমি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি—আমাকে যেন চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা করা হয়।’ সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়