১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন করতে হলে হাতে সময় খুবই কম, পাঁচ মাসেরও কম। নির্বাচন কমিশন সেই লক্ষ্যে দ্রুত প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। সাধারণ মানুষের চিন্তা-ভাবনায়ও সংসদ নির্বাচন ক্রমেই বড় স্থান করে নিচ্ছে। এই অবস্থায় কয়েকটি দলের নানা ধরনের শর্তারোপ, বক্তব্য-বিবৃতি ও কর্মসূচি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তো বটেই, প্রধান উপদেষ্টা নিজেও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘোষিত সময়ে নির্বাচন না হলে দেশে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে এবং জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়তে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত ১১ সেপ্টেম্বর বলেছেন, ‘ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের কোনো বিকল্প আমাদের হাতে নেই।’ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ গত ১৩ সেপ্টেম্বর বলেন, ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন না হলে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে, পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হবে। দেশের আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, দেশকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য অতি দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু যাদের নিয়ে নির্বাচন হবে, সেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেদ ক্রমেই যেন বাড়ছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে তার অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, জুলাই সনদে উল্লিখিত সুপারিশের মধ্যে যেসব সুপারিশ নির্বাহী আদেশ বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেগুলো নিয়ে দলগুলোর মধ্যে তেমন কোনো মতবিরোধ নেই। কিন্তু সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। জামায়াত ও কয়েকটি দল চাচ্ছে, জুলাই সনদের সব সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জামায়াত সাংবিধানিক আদেশ জারি এবং এনসিপি গণপরিষদ গঠনের প্রস্তাব রেখেছে। অন্যদিকে বিএনপিসহ বেশির ভাগ দল সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব আগামী সংসদের ওপর দেওয়ার ব্যাপারে অনড়।
জামায়াতে ইসলামীসহ চারটি ইসলামী দল পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আজ থেকে কর্মসূচি পালন শুরু করছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, পিআর পদ্ধতি চালু, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করাসহ আরো কিছু দাবি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি কী হবে, তা এখনো ঠিক করা হয়নি। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা চলছে। এই অবস্থায় রাস্তায় কর্মসূচি দেওয়া অনেকটাই স্ববিরোধিতা। আমরা চাই, রাজনৈতিক দলগুলো দ্রুত ঐকমত্যে আসুক। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে সবাই অংশ নিক। দেশকে কোনোভাবেই ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়