১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

মাদকের ভয়াবহ বিস্তার

মারণনেশা মাদকের কারণে দেশ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। কি শহর, কি গ্রাম, সর্বত্রই মাদকের ছড়াছড়ি। মাদক কারবারি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায়ই খুনাখুনি হচ্ছে। আক্রান্ত হচ্ছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও। তরুণ-যুবকরা তো আছেই, কিশোর বয়সী, এমনকি কিশোরীরাও ক্রমেই বেশি করে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। মাদক ক্রয়ের অর্থ জোগাতে জড়িয়ে যাচ্ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধে। তার পরও বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে, বিশেষ করে জলসীমান্ত দিয়ে দেশে প্রচুর পরিমাণে মাদক প্রবেশ করছে। প্রবেশ করছে কুরিয়ার ব্যবস্থাসহ অন্যান্য উপায়েও। জানা যায়, ইয়াবা ছাড়াও দেশে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মাদকদ্রব্য ছড়িয়ে পড়ছে। মাদক ব্যবসায় বাড়ছে মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) সূত্র বলছে, মাদক মাফিয়ারা এই সর্বনাশা ব্যবসায় তরুণ শিক্ষার্থীদের বেছে নিচ্ছে। নতুন মাদকদ্রব্যগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘এমডিএমএ’, যা ‘মেথালাইন ডি-অক্সি মেথ-অ্যাম্ফিটামিন’। সম্প্রতি এই নতুন মাদক বেচাকেনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে ডিএনসি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) প্রধান ডা. অরূপ রতন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি মাদকসেবী রয়েছে।’ মাদকসেবীদের সংস্পর্শে এবং মাদকের সহজলভ্যতায় দ্রুত বাড়ছে এই সংখ্যা। পাশাপাশি তাদের মাদক কারবারেও যুক্ত করা হচ্ছে। ডিএনসি সূত্র বলছে, তাদের কাছে ৮৫ জন গডফাদারসহ এক হাজার ২৩০ জন মাদক কারবারির পুরনো তালিকা রয়েছে। তালিকাটি হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেই তালিকা হালনাগাদ করা হয়নি। ডিএনসির ভাষ্য, মাদক কারবারিচক্র তাদের ব্যবসায় নানা উপায়ে শিক্ষার্থীদের জড়াচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টার্গেট করা হচ্ছে। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনা থেকে শুরু করে অলিগলি, এমনকি পাড়াগাঁ পর্যন্ত এখন মাদকদ্রব্য অত্যন্ত সহজলভ্য। অনলাইনে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শুধু মাদক সেবনই নয়, এখন মাদক বেচাকেনায়ও জড়িয়ে পড়ছে। শুধু তা-ই নয়, বিভিন্ন সময় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, স্কুলের ছোট শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগে করেও মাদক পরিবহন করা হয়। ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, ‘সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ মাদকচক্রের সদস্য। এরা মাদক বাণিজ্যে সম্পৃক্ত ছিল। আরো অনেক শিক্ষার্থীও থাকতে পারে। চক্রটি ঢাকায় ডিজে পার্টিসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় মাদক সরবরাহ করে।’ প্রকাশিত খবরাখবরে জানা যায়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে কিছু খুচরা কারবারি, বিক্রেতা, বহনকারী ধরা পড়লেও শীর্ষ মাদক কারবারি বা গডফাদাররা অধরাই থেকে যান। তাঁরা প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেন। দেশেও নামে-বেনামে তাঁরা প্রচুর সম্পদ করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অর্থপাচার রোধ করা গেলে এবং অবৈধ অর্থে দেশে সম্পদ গড়া বন্ধ করা গেলে মাদকের কারবার অনেকটাই কমে আসত। আমরা আশা করি, মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। তাঁদের বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে। একই সঙ্গে যেকোনো মূল্যে মাদকের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়