১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিচার বিভাগকে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প

প্রতিদিনের ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক তদন্ত চালাতে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বন্ডিকে উদ্দেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা আর দেরি করতে পারি না। এটি আমাদের সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ধ্বংস করছে।’ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কমি, নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম শিফের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে বন্ডিকে আহ্বান জানান ট্রাম্প। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কিছুই করা হচ্ছে না।”অ্যাডাম শিফ ট্রাম্পের প্রথম অভিশংসন বিচারের তত্ত্বাবধান করেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি আবার একটি পোস্ট দেন। আর সেই পোস্টে বন্ডির প্রশংসা করেন ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (বন্ডি) খুব ভালো কাজ করছেন।’ট্রাম্প বলেন, ৩০টিরও বেশি বিবৃতি ও পোস্ট পর্যালোচনা করেছেন তিনি। আগের মতোই গল্প, শুধু কথার ফুলঝুরি, কোনও পদক্ষেপ নেই। কিছুই করা হচ্ছে না। কমি, অ্যাডাম ‘শিফটি’ শিফ, লেটিশিয়া—এদের কী হবে??? তারা সবাই ভীষণ দোষী, কিন্তু কিছুই করা হচ্ছে না।ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। সিনেট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বলেছেন, “এটাই একনায়কত্বের পথে নিয়ে যাওয়ার শুরু।”সিএনএনকে তিনি বলেন, “বিচার বিভাগ সবসময়ই খুব শক্তিশালী সিভিল সার্ভিস ছিল, ক্ষমতায় ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান—যেই থাকুক না কেন। তারা ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “আমি মনে করি পাম বন্ডি যুগের সেরা অ্যাটর্নি জেনারেলদের একজন হিসেবে পরিচিত হবেন।”ফেডারেল প্রসিকিউটর এরিক সিবার্টকে বরখাস্ত করার একদিন পর ট্রাম্পের পোস্টটি আসে। ট্রাম্প বলেন, নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের বিরুদ্ধে মর্টগেজ জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করতে ব্যর্থ হয়েছেন সিবার্ট।নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সিবার্ট বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বলেছেন, তাদের তদন্তে জেমসের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মতো যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।লেটিশিয়া জেমস ২০২৩ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেওয়ানি জালিয়াতির মামলা জিতে যান। তিনি মর্টগেজ জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘প্রতিশোধমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।বন্ডিকে ইতোমধ্যে সিবার্টের স্থলাভিষিক্ত মনোনীত করেছেন ট্রাম্প।১৯৭০-এর দশক থেকে বিচার বিভাগ নিজেকে প্রেসিডেন্টের প্রভাব থেকে স্বাধীন রাখার চেষ্টা করেছে।কিন্তু ট্রাম্প সেই প্রথাকে চ্যালেঞ্জ করেন। প্রথম মেয়াদে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসকে বরখাস্ত করেন। কারণ তিনি ২০১৬ সালের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের তদন্ত থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেছিলেন। দ্বিতীয় অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার পদত্যাগ করেন। কারণ তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের ব্যাপক জালিয়াতির মিথ্যা দাবির বিরোধিতা করেছিলেন।দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার রাজনৈতিক শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবেন—যার মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও যারা তার বিরোধিতা করেছেন, তারা রয়েছেন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়