১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

ডিম কীভাবে খাওয়া ভালো

প্রতিদিনের ডেস্ক:
ডিমের পুষ্টিগুণ অনেক। ডিম খাওয়ারও রয়েছে নানান উপায়। দিনের বিভিন্ন সময়ে ডিম বিভিন্ন উপায়ে খায় মানুষ। কিন্তু কীভাবে খেলে ডিম থেকে পূর্ণ পুষ্টি পাওয়া যাবে?কেউ বলে পোচ খেতে, কেউ বলে আধসেদ্ধ খেলে পুষ্টি বেশি পাওয়া যাবে। আসলে কীভাবে খেলে ডিম থেকে পূর্ণ পুষ্টি পাওয়া যাবে? পুষ্টিবিদেরা বলেন ডিমের কুসুমকে যত বেশি সময় ধরে অক্সিজেন ও তাপের সংস্পর্শে রাখা হবে, তত দ্রুত কমবে এর কার্যকারিতা। তাই ডিম আধসেদ্ধ খাওয়াই সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ। তবে হজমশক্তি ও বয়সের ওপর ভিত্তি করে ডিম খাওয়া ভালো।এ ছাড়া দিনে কতগুলো ডিম খাওয়া যাবে, তা অবশ্যই পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে খেতে হবে। অতিরিক্ত প্রোটিন শরীরে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কতভাবে ডিম খাওয়া যায় আর কোন পদ্ধতিতে খেলে পূর্ণ পুষ্টি পাওয়া যায়। আধসেদ্ধ
আধসেদ্ধ বা হাফ বয়েলড ডিম স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো। আগুনের তাপ ডিমের মধ্যে থাকা ক্ষতিকর জীবাণু মেরে ফেলে, সেইসঙ্গে অটুট রাখে কুসুম। যা থেকে পাওয়া পূর্ণ পুষ্টি। সাধারণত ফুটন্ত পানিতে চার-পাঁচ মিনিট ফোটালেই ডিম আধসেদ্ধ হয়ে যায়। গরম পানি থেকে তুলে ডিমটি ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ, তাহলে খোসা ছাড়াতে সুবিধা হবে।অমলেট ডিম খাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় উপায় হলো অমলেট। এক বা দুটি ডিম ফেটিয়ে তাতে লবণ, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ধনেপাতা ইত্যাদি মিশিয়ে গরম তেলে ভেজে নিতে হয়। চাইলে টমেটো, ক্যাপসিকাম বা চিজ যোগ করেও এতে ব্যতিক্রম স্বাদ আনা যায়। সকালের নাশতায় রুটি বা পরোটার সঙ্গে এটি দারুণ জনপ্রিয়। স্ক্র্যাম্বলড ফেটানো ডিমকে হালকা তাপে মাখনের ওপর নরমভাবে নাড়তে নাড়তে রান্না করলে হয় স্ক্র্যাম্বলড। লবণ, মরিচগুঁড়া আর সামান্য দুধ বা ক্রিম দিলে এটি আরও নরম হয়। ইউরোপ-আমেরিকায় ব্রেকফাস্টের জনপ্রিয় একটি আইটেম এটি। তবে আমাদের দেশেও এখন অনেকে এভাবে ডিম খেতে পছন্দ করেন।
ডেভিলড এগ ডিমের কুসুম আলাদা করে মেওনিজ, সরিষার গুঁড়া, গোলমরিচ ও মশলা দিয়ে মিশিয়ে আবার সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশের ভেতরে ভরে দিলে হয় ডেভিলড এগ। পার্টি বা বিশেষ উপলক্ষ্যে অতিথিদের জন্য এটি বেশ আকর্ষণীয় একটি খাবার। ডিমের কারি বাংলাদেশ ও ভারতীয় রেসিপি হিসেবে ডিমের কারি খুবই জনপ্রিয়। সেদ্ধ বা হালকা ভাজা ডিম মশলাদার গ্রেভিতে রান্না করে ভাত বা রুটির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। সহজ, দ্রুত এবং পুষ্টিকর একটি খাবার। এগ স্যান্ডউইচ সেদ্ধ ডিম চটকে মেওনিজ, গোলমরিচ ও সবজি মিশিয়ে পুর হিসেবে পাউরুটির মধ্যে দিয়ে তৈরি হয় এগ স্যান্ডউইচ। টিফিনবক্স বা ট্যুরের জন্য এটি খুবই সুবিধাজনক একটি খাবার। এগ ফ্রাইড রাইস ভাতের সঙ্গে ফেটানো ডিম, সয়াসস, সবজি আর সামান্য তেল দিয়ে তৈরি হয় এগ ফ্রাইড রাইস। এটি চাইনিজ ঘরানার একটি সুস্বাদু ও পেটভরা খাবার, যা দুপুর বা রাতের খাবারের জন্য আদর্শ। তেলছাড়া পোচ তেলবিহীন ডিম পোচ স্বাস্থ্যকর। তবে এটি করা একটু কঠিন। ডিম ভেঙে একটি বাটিতে নিন। সামান্য লবণ আর গোলমরিচের গুঁড়া দিন এর ওপর। খেয়াল রাখবেন, কুসুম যেন আস্ত থাকে। একটা বড় হাড়িতে পানি ফোটান ভিনেগার দিয়ে, তার ভেতর সাবধানে ওই ডিমটা ছেড়ে দিন। ছাড়ার সময় পানিটা একবার নেড়ে দেবেন। সাদা অংশটা কুসুমকে মুড়ে নেবে এবং খুব দ্রুত রান্না হয়ে যাবে, তখন ঝাঁঝরি দিয়ে তুলে পানি ঝরিয়ে নিন। প্রথমেই পারফেক্ট পোচ বানাতে পারবেন না, কিন্তু দুই একবার চেষ্টা করলেই হয়ে যাবে।সেদ্ধ ডিম আট-দশ মিনিট লবণপানিতে ফোটালেই সেদ্ধ ডিম পাওয়া যায়। সবাই হজম করতে পারবেন। ডিমের সালাদ, স্যান্ডউইচ বা তরকারিও রান্না করা যায় সেদ্ধ ডিম দিয়ে। পুষ্টির দিক থেকেও তেমন ঘাটতি পড়ে না, এছাড়া টিফিনবক্সে ভরে স্কুল, অফিস, ট্যুর সর্বত্র নিয়ে যেতে পারবেন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়