১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

বেনাপোলে কাস্টমস হাউজে দুদকের অভিযানে ঘুষের টাকাসহ আটক রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা-হাসিব কারাগারে

সৈকত হোসেন
২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তার ও তার সহযোগী হাসিব উদ্দীনের বিরুদ্ধে দূর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সহকারী পরিচালক আল আমীন বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। মামলার দুই আসামিকে আটক দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সিনিয়র স্পেশাল জেলা জজ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক সালেহুজ্জামান ওই দু’জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আটক শামীমা যশোর শহরের নাজির শংকরপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে ও হাসিবুর রহমান বেনাপোলের নাজমুল হোসেনের ছেলে। সোমবার রাতে কাস্টমস হাউজে অভিযানে হাসিবুর রহমানকে টাকাসহ আটক করে দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সদস্যরা। মঙ্গরবার প্রাথমিক তদন্ত শেষে করলে দুপুরে রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তারকেও গ্রেফতার করে। পরে ঘুষ গ্রহণের মামলায় বিকেলে মামলার অভিযোগে জানা গেছে, বেনাপোল কাস্টম হাউসের কিছু কর্মকর্তা আমদানি পণ্যে সঠিকভাবে শুল্কায়ন না করে, ঘুষ নিয়ে আমদানি পণ্যে শুল্কায়ন করছে, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল বেনাপোল কাস্টম হাউসে অভিযান চালায়। দুদক কর্মকর্তারা বিকেল চারটার দিকে বেনাপোল কাস্টম হাউসের প্রধান ফটক থেকে হাসিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনক ভাবে আটক করেন। এ সময় তার কাছ থেকে ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুর রহমান ওই টাকা বেনাপোল কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তারের ঘুষের বলে জানান। তাকে নিয়ে কাস্টম হাউসের চতুর্থ তলায় শামীমা আক্তারের কক্ষে যান দুদক কর্মকর্তারা। শামীমা আক্তারকে ওই টাকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি দুদককে জানান, হাসিবুর রহমানের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ হয় এবং হাসিবুর রহমানকে ওই টাকা তার দপ্তরে আনতে বলেছেন। পরবর্তীতে টিম কর্তৃক হাসিবুর রহমানের কাছ থেকে উদ্ধার করা ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা জব্দ করেন। এ ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওায়ায় ওই দুইজনের বিরুদ্ধে দূর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। মঙ্গলবার রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তারকে আটক করে দুদক। মামলা দুদকের তদন্ত নং -৯ তারিখ স্মারক নং ২৪২২ মামলা নং ১১/২০২৫ তারিখ ৭/১০/২০২৫। এই মামলার এজাহারে উল্লেখ অনুযায়ী আসামিরা হলেন, বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সুপার শামিমা খাতুন, পিতা শহিদুল ইসলাম, গ্রাম: ৩০২ নাজির শংকরপুর যশোর ও বেনাপোল পোর্ট থানার নাজমুল হোসেনের ছেলে হাসিবুর রহমান (২৭)। ১ নং আসামি ও ২ নং আসামি ঘুষ লেন দেন এর কাজে সহায়তা থাকায় বাংলাদেশ দন্ডবিধির ১৬১/১৬২/১৬৩/১৬৪ও ১৬৫ (ক) ১০৯ নং ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫ (২) ধারায় শাস্তি যোগ্য অপরাধ করেছেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাদি কাস্টমস এর উপ-সহকারী পরিচালক মো: আনোয়ার হোসেন বেনাপোল কাস্টমস হাউজের ঘুষ সম্পর্কিত বিষয়ে ওৎ পেতে থাকে। এবং তার কাছে আগে থেকে গোপন সুত্রে খবর পাওয়া ঘুষ লেন দেন এর বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত থাকায় কাস্টমস এর সামনে থেকে বেনাপোল পোর্ট থানার বেনাপোল গ্রামের হাসিবকে কাস্টমস হাউজের সামনে থেকে আটক করে । ওই এজাহারে উল্লেখ আছে কাসটমস এর সুপার দীর্ঘদিন যাবৎ এনজিও কর্মীকে দিয়ে ঘুষ লেন দেন এর কাজ করে। তিনি বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ৬ নং গ্রুপে কাজ করেন। ওই গ্রুপে মোটর পার্টস ও মোটর গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানি হয় ভারত থেকে। যার এস এস কোড বদল করে ঘুষ লেনদেন এর কাজ হয়। সুপার দীর্ঘদিন ধরে হাসিবকে দিয়ে দুর্নীতিবাজ সিএন্ড এফ এর নিকট থেকে ঘুসের টাকা আনে এবং সময় সুযোগ মত সে সুপারকে কখনো নগদ কখনো বিকাশে দিয়ে দেয়। অভিযোগ এর কপি অনুযায়ী দেখা গেছে মোবাইল মেসেজ এর মাধ্যেমে গত ১০/০৮২৫ ইং তারিখ সুপা কে ০১৭১১৩৭৫৩৭৯ নাম্বারে ৭ হাজার টাকা পঠিয়েছে। এরপর গত ২২ আগষ্ট ০১৭৩৫-৩৯৮০৮০ নাম্বারে বিকাশ করতে বলেন,১১ সেপ্টেম্বর রাত্রে ০১৯১৪-৮৪৮১২ নাম্বারে ম্যাসেজ করে জানতে চায় টাকা ওই নাম্বারে যাবে কি না এরপর হাসিবুর জানায়, ম্যাডাম টাকা পাঠানো হয়েছে লাষ্ট নাম্বার ১৪১৪। এছাড়া হাসিবকে দিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে শুল্ক ফাকির কাজে সহায়তা করে আনা টাকা প্রথমে কাস্টমস এর সামনে বিকাশ এর দোকানে রাখে এরপর সেখান থেকে টাকা নিয়ে সুযোগ বুঝে হাসিব এর নিকট থেকে নিয়ে নেয়। হাসিবকে দিয়ে ওই দিন জনৈক সিএন্ডএফ এর নিকট থেকে ঘুষের ২লাখ ৭৬ হাজার টাকা আনে। এরপর কাস্টমস গেটে হাতে নাতে হাসিবকে আটক করে শামিমার নিকট ফোন দিলে শামিমা জানায় টাকা তোমার নিকট রাখ আমি পরে নিব। এদিকে, সোমবার বেনাপোল কাস্টম হাউসে অভিযানে গিয়ে বাঁধার মুখে পড়েন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা। এ সময় তাঁদের গাড়িটি প্রায় ৩০ মিনিট আটকে রাখা হয়। সোমবার রাতে বেনাপোল কাস্টম হাউস চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। সূত্র জানায়, জব্দ করা টাকার নম্বর মিলিয়ে তালিকাবদ্ধ করতে রাত সাড়ে আটটা বেজে যায়। এ সময় দুদক কর্মকর্তারা রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তারের কাছ মুচলেকা নিয়ে তাঁকে কাস্টমস কমিশনারের জিম্মায় রেখে বেরিয়ে কাস্টম হাউসের প্রধান ফটকের সামনে রাখা গাড়িতে তারা ওঠেন। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে শতাধিক লোক গাড়িটি আটকে রাখেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন কর্মকর্তারা। খবর পেয়ে প্রায় ৩০ মিনিট পর রাত সোয়া নয়টার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ কাস্টম হাউসে গিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে। এরপর পুলিশি প্রহরায় গাড়িটি যশোরের উদ্দেশ্যে বেনাপোল কাস্টম হাউস ছেড়ে যায়। এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কাস্টমস কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের ব্রিফিং করছেন দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আল-আমীন। ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সাংবাদিকেরা তাকে ঘিরে ‘দুর্নীতিবাজ’ ও ‘ঘুষখোর’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তাকে বিমর্ষ অবস্থায় দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে যেতে দেখা যায়। অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বেনাপোল কাস্টম হাউসের মূল ফটকের সামনে দুদকের গাড়িটি আটকে রাখা হয়েছে। গাড়ির মধ্যে বসে আছেন দুদকের কর্মকর্তারা। অবরোধকারীরা গাড়িটির চারপাশে অবস্থান করছেন। এ সময় দুদক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দীন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তারের সহযোগী হাসিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে টাকার উৎস যাচাই বাছাই শেষে মঙ্গলবার সহকারী পরিচালক আল আমীন মামলা করলে আসামী রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তারকেও মঙ্গলবার যশোর শহর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জব্দ করা টাকা আদালতের অনুমতি নিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। হাসিব কাসটমস হাউসে বিগত ২০২০ সাল থেকে এনজিও কর্মী হিসাবে কাজ করে

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়