১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

যশোরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা হত্যাকাণ্ডের পর উত্তেজনা : আসামির বাড়িতে আগুন

সুন্দর সাহা
যশোরে ইজিবাইক চুরি নিয়ে বিরোধ এবং এলাকায় ইয়াবা কারবারে বাধা দেওয়ায় চঞ্চল মাহমুদ (৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয়পক্ষের সংঘর্ষে নিহত যুবকের পরিবারের সদস্যসহ মোট ছয়জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত চঞ্চল মাহমুদ গাজী (৩০) ডাকাতিয়া গ্রামের মধু গাজীর ছেলে। চঞ্চল গাজী নিহত হওয়ার পর উত্তেজিত এলাকাবাসী প্রধান আসামি রবিউল গাজীর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। অপরদিকে আহতরা হলেন, চঞ্চলের পিতা মধু গাজী, মা হাসিনা বেগম ও ছোট ভাই তুহিন এবং হামলাকারী রবিউল ইসলাম (৩৮), তার ভাই বিল্লাল হোসেন (৪০) এবং রবিউলের ছেলে মুন্না (১৮)। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে সিন্ডিকেট প্রধান রবিউল ইসলাম, তার ভাই বিল্লাল হোসেন ও ছেলে মুন্নাকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি চঞ্চল মাহমুদের একটি ইজিবাইক চুরি হয়। চঞ্চল ও স্থানীয়রা চোর সিন্ডিকেট প্রধান রবিউল ইসলামকে সন্দেহ করে ইজিবাইকটি ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করেন। এ নিয়ে রবিউল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এছাড়া ওই এলাকায় রবিউল ও বিল্লালের ইয়াবা ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় চঞ্চল ও তার পিতার ওপরে আগে থেকেই ক্ষিপ্ত ছিল রবিউল ও বিল্লাল। এইসব বিরোধের জের ধরেই বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে রবিউলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। তারা চঞ্চলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। চঞ্চল মাহমুদ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান তার বাবা মধু গাজী, মা হাসিনা বেগম ও ছোট ভাই তুহিন। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে হামলাকারী রবিউল, বিল্লাল ও মুন্নাও আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে গেলে হামলাকারীরা চলে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে আনার পর চঞ্চল মাহমুদ গাজীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আর গুরুতর জখম মধু গাজীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তিনি। হামলায় নিহত চঞ্চল গাজীর পিতা মধু গাজী জানান, রবিউল ও বিল্লালের নেতৃত্ব এলাকায় প্রকাশ্যে ইয়াবার ব্যবসা চলে। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আমার ছেলে চঞ্চল তাদের ইয়াবা ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় তারা আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে চঞ্চল ডাকাতিয়া গ্রামের ডাক্তার ইসরাইল হোসেনের বাড়ির সামনের রাস্তায় ছিল। এসময় রবিউল, বিল্লাল ও মুন্নাসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এসময় তিনি (মধু গাজী) এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে হওয়া গোলযোগে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ছুরিকাঘাতে বাবা-ছেলেসহ ৫ জন আহত হন, যার মধ্যে চঞ্চল গাজী নামে একজন মারা গেছেন। সর্বশেষ খবরে জানা যায়, যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ডাকাতিয়া গ্রামে মাদক ব্যবসা ও ইজিবাইক চুরি নিয়ে সংঘর্ষে যুবক চঞ্চল গাজী নিহত হওয়ার পর উত্তেজিত এলাকাবাসী প্রধান আসামি রবিউল গাজীর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মাদক ও ইজিবাইক চুরিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চঞ্চল গাজী (২৮) নিহত হন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রবিউল গাজীর পাকা বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। খবর পেয়ে শানতলা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় বাড়ির বেশ কিছু আসবাব ও মালামাল পুড়ে যায়। যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, “হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। আগুন লাগানোর পর দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে, এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রবিউল ও তার সহযোগীরা মাদক ব্যবসা ও চুরির সঙ্গে জড়িত থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজকের এই ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়