প্রতিদিনের ডেস্ক
এখন ডেড সি’র পানির স্তর প্রতি বছর প্রায় এক মিটার করে কমে যাচ্ছে। ফলে আরও বেশি লবণ এর গভীরে জমছে এবং হ্রদের গঠনেও পরিবর্তন আনছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে তাপমাত্রা। একসময় ‘মেরোমিকটিক’ ছিল ডেড সি, যেখানে সারা বছরজুড়ে এ সাগরের পানি স্তরে স্তরে বিভক্ত থাকত। উপরের স্তরে থাকত উষ্ণ ও তুলনামূলকভাবে কম লবণাক্ত পানি এবং নিচের স্তরে থাকত ঠান্ডা ও বেশি লবণাক্ত পানি। এই স্তরবিন্যাসের কারণে লবণ পুরো হ্রদের পানিতে সমানভাবে মিশে যেতে পারত না। তবে ১৯৮০-এর দশকে যখন ডেড সি’তে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যায় তখন এর উপরিভাগের পানির লবণাক্ততা বেড়ে যায়। এতে সাগরের পানির বিভিন্ন স্তর মিশে যেতে শুরু করে ও ডেড সি ‘হোলোমিকটিক’ হ্রদে পরিণত হয়, যেখানে এখন এটি বছরে অন্তত একবার পুরোপুরি মিশে যায়। এ মিশ্রণের পরেও উষ্ণ মাসে হ্রদ আবার স্তরে বিভক্ত হয়ে যায় এবং ঠিক এই সময়ে হ্রদে কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। ২০১৯ সালে মাইবুর্গের এক গবেষণা দল আবিষ্কার করে, লবণের স্ফটিক, যেগুলোকে ‘হ্যালাইট’ বা শিলালবণ বলা হয় এগুলো পানির স্তরের নিচে নেমে যাচ্ছে। বিষয়টি এমন যেন পানির নিচে ‘লবণের তুষারপাত’ হচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, এটি বিস্ময়কর। কারণ, সাধারণত লবণ ঠান্ডা পরিবেশে বেশি স্ফটিক আকারে জমে। তবে গরমে বাষ্পীভবনের কারণে উপরের পানির লবণাক্ততা বেড়ে যায় ও উপরের উষ্ণ স্তর আরও বেশি লবণ দ্রবীভূত রাখতে পারে। এ কারণেই সেখানে ‘ডবল ডিফিউশন’ নামের এক বিশেষ অবস্থা তৈরি হয়।গরম ও লবণাক্ত পানি ঠান্ডা হয়ে নিচে নামে, আর তুলনামূলক ঠান্ডা পানি উপরে উঠে গরম হয়। যখন উপরের স্তর ঠান্ডা হয় তখন অতিরিক্ত লবণ স্ফটিক হিসেবে গঠিত হতে শুরু করে ও নিচে পড়ে যায়।

