নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর জেলা যুবলীগের নেতা তৌহিদ চাকলাদার ফন্টুর বিরুদ্ধে ৯০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের দুটি মামলা হয়েছে। তিনি সরকার পতনের আগে বিতর্কিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সদরের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তবে সেই চেয়ারে বসার আগেই ৫ আগস্ট ঘটে যায় সরকার পতন। সেই থেকে তিনি কার্যতঃ পলাতক। কমার্শিয়াল ব্যাংকের পক্ষে যশোর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মুর্তুজা আহম্মেদ বাদী হয়ে মামলা দুটি করেছেন। আদালত সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আদালত ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শান্তনু কুমার মণ্ডল অভিযোগ দুটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৭ মার্চ তাকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। ফন্টু চাকলাদার যশোর শহরের পুরাতন কসবা কাঠালতলার আব্দুল কাদের চাকলাদারের ছেলে। তিনি জেলা যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। প্রথম মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ফন্টু ‘মেসার্স ভৈরব মৎস্য খামার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে ব্যাংক থেকে লোন নেন। সেই ঋণ পরিশোধের জন্য তিনি ৪০ লাখ টাকার একটি চেক দেন। গত ২০ আগস্ট ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) যশোর শাখায় চেকটি উপস্থাপন করলে তা ডিজঅনার হয়। পরে ২৬ আগস্ট তাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে তিনি কোনো জবাব না দেওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেছে। অন্য মামলার অভিযোগেও একই রকম ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ফন্টুকে ‘হাসিনা ফিস ফিড’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধের জন্য তিনি ৫০ লাখ টাকার চেক ইস্যু করেছিলেন, যা একই দিনে ব্যাংকে জমা দিলে ডিজঅনার হয়। এরপর নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। মামলা দুটির বাদী প্রিন্সিপাল অফিসার মুর্তুজা আহম্মেদ বলেন, “চেকগুলো নিয়ম অনুযায়ী উপস্থাপন ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই মামলা করা হয়েছে।” আদালত সূত্রে আরও জানা গেছে, দুটি মামলাতেই ফৌজদারি মামলা আইনের ১৩৮ ধারা (চেক ডিজঅনার আইন) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন আদালতের পরবর্তী তারিখে ফন্টুকে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

