প্রতিদিনের ডেস্ক:
শাহনাজ বেগম হাসপাতালে সামনে গোলাপি ফিতাসহ বিশাল পোস্টার থেকে কিছুটা অবাক হলেন। পাশে লেখা স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস।অক্টোবর আসলেই ঢাকার অনেক হাসপাতালের সামনে এই গোলাপি ফিতার পোস্টার বেশি দেখা যায়। শাহনাজ বেগমের মতো অনেকেই জানেন না কেন অক্টোবরে গোলাপি ফিতার প্রচারণা বেড়ে যায়। এর কারণ অক্টোবর হলো – স্তন ক্যানসার সচেতনতার মাস। আর গোলাপি ফিতা অর্থাৎ পিঙ্ক রিবন হলো স্তন ক্যানসারের সচেতনতার আন্তর্জাতিক প্রতীক।সারাবিশ্বে ব্রেস্ট বা স্তন ক্যানসারে নারীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গবেষকেরা বলেন, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে ক্যানসার প্রতিরোধের এক বড় হাতিয়ার। সঠিক খাবার নির্বাচন ও জীবনযাত্রার ভারসাম্য রাখলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।তাই চিকিৎসা ব্যবস্থা যতই উন্নত হোক না কেন, স্তন ক্যানসারে প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত। এই প্রতিরোধের অন্যতম সহজ সহযাত্রী হতে পারে পরিচিত এক পানীয় – গ্রিন টি।জাপান ও চীনের একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত গ্রিন টি পান করেন, তাদের মধ্যে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক কম।জাপানের ন্যাশনাল ক্যানসার সেন্টারের একটি গবেষণায় বলা হয়, প্রতিদিন ৩–৪ কাপ গ্রিন টি পানকারীদের ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ–এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রিন টির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে নতুন কোষ তৈরির প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, যা ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।গ্রিন টি যেভাবে কাজ করেগ্রিন টিতে রয়েছে ক্যাটেচিন নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। বিশেষ করে ইপিগ্যালোক্যাটেচিন গ্যালেট যৌগটি কোষের ডিএনএর ক্ষতি প্রতিরোধ করে এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী ফ্রি র্যাডিকেলকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।এছাড়া নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে শরীরে টিউমার সৃষ্টিকারী কোষের বৃদ্ধি কমে এবং ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা হয়। যা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকির অন্যতম কারণ।গ্রিন টি তৈরির পদ্ধতি
১. গ্রিন টি বানানোর জন্য ফুটন্ত পানি নয়, হালকা গরম পানি ব্যবহার করা ভালো। অতিরিক্ত গরম পানি চা পাতাকে পুড়িয়ে দিতে পারে, ফলে স্বাদ তেতো হতে পারে।
২. প্রতি কাপ চায়ের জন্য ১ চা চামচ গ্রিন টি পাতা ব্যবহার করতে পারেন। যদি টি-ব্যাগ ব্যবহার করেন, তাহলে প্যাকেটের নির্দেশাবলী অনুসরণ করুন।
৩. গরম পানিতে গ্রিন টি পাতা ২-৩ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এটি স্বাদের জন্য যথেষ্ট। বেশি সময় ধরে ভিজিয়ে রাখলে স্বাদ তেতো হয়ে যাবে।
৪. সময় হয়ে গেলে পাতা বা টি-ব্যাগ সরিয়ে ফেলুন। যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে ছেঁকে নিতে পারেন।
৫. স্বাদে ভিন্নতা আনতে চাইলে মধু, লেবুর রস বা পুদিনা পাতা যোগ করতে পারেন।
গ্রিন টির কার্যকারিতা পেতে চাইলে যে নিয়ম মেনে চলবেন-
১. দিনে ২–৩ কাপের বেশি পান না করা।
২. চিনি বা দুধ না দেওয়া ।
৩. খাবারের ৩০ মিনিট পর বা বিকেলে পান করলে বেশি উপকার পাবেন।
গ্রিন টি কেবল ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায় না, শরীরকে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত করে।

