প্রতিদিনের ডেস্ক
ভারতের শীর্ষ তেল কম্পানিগুলো রাশিয়ার জায়ান্ট রোসনেফ্ট এবং লুকোয়েলের বিকল্প সরবরাহ খুঁজতে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের সন্ধান শুরু করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই দুই কম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। ভারত রাশিয়া থেকে প্রতিদিন প্রায় ১.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল কিনছে। যার মধ্যে প্রায় ১.২ মিলিয়ন ব্যারেল আসে অনুমোদিত দুটি জায়ান্ট, রোসনেফ্ট এবং লুকোয়েল থেকে। ২১ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত সময়ের পর, ভারতকে এই দুটি কম্পানির কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে হবে, বিশেষত স্বল্পমেয়াদে। এর অর্থ, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি থেকে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের আমদানি তীব্রভাবে হ্রাস পেতে পারে। ভারত তার মোট জ্বালানি আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রাশিয়া থেকে আনে। রাশিয়ার দুই জায়ান্ট এবং তাদের ক্রেতাদের ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়ার পর, অপরিশোধিত তেলের দাম ৬০ ডলার থেকে বেড়ে ৬৫.৮৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে দাম আরো বাড়তে পারে।
কারণ এই দুটি কম্পানির তেল বাজার থেকে বেশির ভাগই সরিয়ে নেওয়া হবে। বৈশ্বিক তেলের দামের ওপর চাপ বাড়াতে পারে যদি, চীন রোসনেফ্ট এবং লুকোয়েল থেকে সমুদ্রপথে তেল কেনা বন্ধ করে। তবুও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রাথমিক প্রভাবের পর দাম স্থিতিশীল হবে। কপলার কম্পানির প্রধান বিশ্লেষক সুমিত রিতোলিয়া বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে বৃহত্তর বাজার প্রভাব সম্ভবত সীমিত থাকবে’। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আশা করছি, প্রাথমিক পুনর্বিন্যাসের পরবর্তী এক বা দুই মাসের মধ্যে সরবরাহের ধারা টিকিয়ে রাখা যাবে।’ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈশ্বিক তেলের দাম কমেছে, কারণ সৌদি আরবের মতো পশ্চিম এশিয়ার উৎপাদক দেশগুলো উৎপাদন বাড়াচ্ছে। একই সময়ে, বৈশ্বিক তেলের চাহিদা হ্রাস পাচ্ছে। সংবাদ সংস্থা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ সম্ভাব্য ঘাটতি পূরণে তৎপর হয়েছে এবং সৌদি আরব, ইরাক, কাতার এবং এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন ধরনের তেল বড় পরিমাণে ক্রয় করছে।

