১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

প্রশ্নবিদ্ধ জুলাই সনদ ও সংঘাতের শঙ্কা

মোস্তফা হোসেইন
কোন দিকে যাচ্ছে দেশ? আমরা কি ভয়ংকর কোনো ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছি? দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকালে সাধারণ মানুষের মুখের প্রশ্ন এটা। প্রশ্ন শোনা যায়- হাটেমাঠে সবখানে এবং হরহামেশাই। যেহেতু জনপ্রতিনিধি নেই,তাই কঠিন এই প্রশ্নটুকু সরকারের কাছে পর্যন্ত পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ফলে আতঙ্কের ডালপালা ছড়াচ্ছে-আসলেই কি আমরা বড় কোনো বিপর্যয়ের দিকে যাত্রা করছি?
এমন পরিস্থিতিতে সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জনআতঙ্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিলেন-একটি মন্তব্য করে। বললেন,‘নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো সংঘাতের জন্য মুখিয়ে রয়েছে।প্রধান উপদেষ্টার অবস্থানের কারণে এখন পর্যন্ত তারা সংঘাতে জড়াচ্ছে না’ বলেও মনে করেন তিনি। ‘সবাই সংঘাতের জন্য মুখিয়ে আছে এবং আপনারা অবশ্যই এটা অল্প কয়েক মাসের মধ্যে দেখতে পাবেন এবং আমি আশঙ্কা করছি, যদি এটার সঙ্গে ধর্মীয় যে দৃষ্টিকোণ, এটা যদি যুক্ত হয়, তাহলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’অত্যন্ত ভীতিকর ভবিষ্যৎ বাণী এটা। এবং জনপ্রতিনিধি না থাকলেও তিনি যে জনগণের পাল্‌স বুঝতে পেরেছেন এটা মনে করা যায়। এর কয়েকদিন পরই ‘ছোটখাটো নয়, বড় শক্তি নিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন,‘নির্বাচন বানচালের জন্য ভেতর থেকে, বাইরে থেকে অনেক শক্তি কাজ করবে। ছোটখাটো নয়, বড় শক্তি নিয়ে বানচালের চেষ্টা করবে। হঠাৎ করে আক্রমণ চলে আসতে পারে।’( প্রথম আলো,২৯ অক্টোবর ২০২৫)। প্রধান উপদেষ্টা সরকারের প্রধান,রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নিয়মিত প্রতিবেদন তাঁর জানার কথা। সুতরাং এটা ধরে নেয়া যায়,যথাযথ তথ্য প্রমাণ পাওয়ার পরই তিনি এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন।তাঁর কথা অনুযায়ী সহজেই অনুমান করা যায়,নির্বাচন যারা চায় না তারা সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে,কারা নির্বাচন চায় না।জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে একমাত্র এনসিপি ছাড়া বাকি ছোটবড় সব দলই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে,তাইলে ভিতর থেকে কারা আক্রমণ করতে পারে। জবাবটা প্রথম অবস্থায় দেওয়া যায়-কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে তিনি ইঙ্গিত করে থাকতে পারেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডই যেখানে নিষিদ্ধ এবং তাদের নেতাদের প্রায় সবাই যখন পলাতক,তাদের কর্মীরা অনেকেই কারাগারে কিংবা তারা মাঠে নামারও সুযোগ পাচ্ছে না,তাইলে আওয়ামী লীগ কিভাবে এই আক্রমণের মতো কঠিন কর্মসূচি নিতে পারে?
তাহলে আওয়ামী লীগের কর্মীদের ঝটিকা মিছিল ক্রমান্বয়ে বড় হওয়া দেখে কি এমন অনুমান হচ্ছে যে,তারাই সংগঠিত হয়ে বড় কোনো হাঙ্গামা বসিয়ে দিতে পারে?তবে তাদের মিছিলগুলোর আকার ধীরে ধীরে বড় হওয়া এবং মিছিলের সংখ্যা দেখলে অন্তত এটা মনে করা যায়, তারা নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা করছে না। তাদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ কি অপ্রতিরোধ্য হতে যাচ্ছে? এটাই কি বড় আক্রমণের আশঙ্কার মূল কারণ?
অন্য একটি বিষয় উল্লেখ্য এই প্রসঙ্গে। এনসিপি নেতা একাধিকবার বলেছেন,ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। এটা তাঁর বিশ্বাস এবং পরিকল্পনা থেকে ব্যাক্ত করেছেন এমনটাই বলা যায়। যখন দেখা যায় যে সব কটা দল নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়ার পরও তাদের দলটিই চুপচাপ। সন্দেহ হতেই পারে-তারাও নির্বাচন চায় না। তাইলে কি তারাও ভিন্নরকম ভাবছে? তথ্য উপদেষ্টা বলেছেন গত ১ বছরে অসংখ্য মাজার ভাঙা হয়েছে। এই মাজার ভক্তদের আওয়ামী লীগ উস্কে দিচ্ছে। তাদের বোঝানো হচ্ছে,ড.মুহম্মদ ইউনূস এই মাজার ভাঙছে। সুতরাং তারাও প্রতিবাদ করতে পারে- রাস্তায় নামতে পারে এমনকি মারমুখী অর্থাৎ সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। মাজার ভাঙার কারণে কারো বিচার হয়নি এটা তিনি না বললেও মাজারপন্থীরা সবাই তা প্রত্যক্ষ করেছে। এমনকি মাইকে ঘোষণা দিয়ে মাজার ভাঙার সংবাদও প্রকাশ হয়েছে।কিংবা রাজবাড়িতে যে নুরাল পাগলার লাশ কবর থেকে উঠিয়ে লাশের উপর নির্যাতন চালিয়ে লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হলো, সেটা কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনির সামনেই। এবং সেটা ঘটনার কয়েকদিন আগে সাংবাদিক সম্মেলন করেই করা হয়েছে। আর যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে ভিডিও ফুটেজে তার পুরো প্রমাণও রয়েছে। কিন্তু কোনো মাজারের নিরাপত্তাই দিতে পারেনি সরকার এবং মবসৃষ্টিকারীদের কোনো বিচারও হয়নি। সুতরাং এই মাজারপন্থীরা ক্ষুব্ধ হওয়া স্বাভাবিক। আর সেই সুযোগটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিরোধিরা যদি গ্রহণ করে একে অস্বাভাবিক বলা যাবে না।
অন্যদিকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেহেতু আমাদের চোখের সামনে, তাই তাদের এই আশঙ্কাগুলোর সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভাবনা কিংবা দুর্ভাবনাকে মিলিয়ে দেখা যেতে পারে। ‘নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো সংঘাতের জন্য মুখিয়ে রয়েছে’ বলে যে তথ্য উপদেষ্টা মন্তব্য করেছেন,তাতে বোঝা যায় রাজনৈতিক দলগুলো দেশে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।শুধু তাই নয় তারা ‘মুখিয়ে আছে’ মানে অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে কখন তারা সংঘাতে লিপ্ত হবে এমন ইঙ্গিতও তিনি দিয়েছেন। এখানেও দেখা যায়,তীর আওয়ামী লীগের দিকেই ছুটে যাচ্ছে। কিন্তু সংঘাতময় পরিস্থিতি কি শুধু তারাই করতে চাইছে?
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতা,পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসের মাত্রা অতি নিন্ম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে তা সবাই প্রত্যক্ষ করছে। আজকে যে মিত্র কাল ভোরের আগেই সে মহাশত্রুর কাতারে চলে যাচ্ছে, এটা দেশের মানুষ সবাই দেখতে পাচ্ছে। শুধু তাই নয়,অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে গঠিত হলেও সেই সরকারের প্রতিও দলগুলোর আস্থাহীনতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সবাই রাজনৈতিক লাভ লোকসান নিয়ে ভাবছে। জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী দল গণসংহতি নেতা জুনাইদ সাকী তাদের সম্মেলনে ফ্যাসিবাদ বিদ্যমান এমন কথাও বলে ফেলেছেন। বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ না হলে ফ্যাসিবাদ দূর করা যাবে না। নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমানও বিএনপির সুরে সুর মিলিয়ে বলছে সরকার আসলে জনগণের সঙ্গে ফোর টুয়েন্টিগিরি করেছে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশে বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি। তাদের চিন্তা-ভাবনা,কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক আবহাওয়ার দিক নির্দেশক।এই দলটির সাথে অন্যদের সম্পর্ক এখানে বিবেচ্য।সম্প্রতি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সুপারিশকে কেন্দ্র করে বিএনপির যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে,তাতে আগামী দিনটা কেমন যাবে তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ভাবনায় পড়তে হয়।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম কিছুদিন আগে ড.মুহম্মদ ইউনূস এর প্রশংসা করতে গিয়ে বলেছিলেন, তিনি ইউনূস এর কথাবার্তায় জিয়াউর রহমানকে দেখতে পান। সেই মির্জা ফখরুল ইসলামই বলেছেন, সরকার তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সুপারিশকে কেন্দ্র করে এনসিপি জামায়াত সন্তোষ্ট হলেও বাকি দলগুলোর অধিকাংশই ক্ষুব্ধ। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশে বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ তারা।অন্যদিকে গণভোট বিষয়েও রয়েছে জামায়াতে ইসলাম ও বিএনপির বিপরীত মুখী অবস্থান। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি হিসেবে মুহম্মদ ইউনূস জুলাই সনদে সই করেছেন। ফলে সরকার প্রধান হিসেবে স্ববিরোধী অবস্থানে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকার পরও সুপারিশটা গিয়েছে বিএনপির প্রস্তাবকে পাশ কাটিয়ে। ড.মুহম্মদ ইউনূস বিএনপির বিপরীত অবস্থানে যাবে এটা হয়তো তারা ভাবেনি। জুলাই সনদে কিছু ইচ্ছাকৃত ভুলের অভিযোগ এনেছে বিএনপি।বিষয়টি এত দূর গড়িয়েছে যে তারা সরকারকে প্রতারক হিসেবে আখ্যায়িত করতেও দেরি করেনি। বিএনপির সমমনা দলগুলোও তাদের সঙ্গেই সুর মিলিয়েছে।
তার মানে হচ্ছে-যে মির্জা ফখরুল ইসলাম কিছুদিন আগেও বলেছিলেন, ড. ইউনূস কথা তিনি জিয়াউর রহমানের কণ্ঠ শুনতে পান সেই মির্জা সাহেবই এখন ইউনূস সরকারকে প্রতারক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শুধু তাই নয়, সর্বশেষ ১ নভেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজউদ্দীন আহমেদ বীরবিক্রম স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন জুলাই সনদেরই প্রয়োজন নেই।এই জুলাই সনদ ২৪ এর গণআন্দোলনের নেতা-কর্মীদের রক্ষাকবচ হিসেবে গণ্য। তারা প্রকাশ্যেই বলেছেন,জুলাই অভ্যুত্থানকে আইনগত ভিত্তি না দেওয়া হলে তাদের জীবন হুমকির মুখে পড়বে।কিন্তু এই মুহূর্তে বিএনপির প্রবীণ নেতা এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য যখন এর প্রয়োজনীয়তা নেই বলেন,তখন জুলাই সনদের জন্য যারা প্রাণান্ত চেষ্টা করেছেন এবং যাদের মাধ্যমে তা সম্পন্ন হয়েছে,তারা কি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজের এই বক্তব্যকে সহজভাবে মেনে নেবেন? মেনে নেওয়ার কথা নয়,কারণ এই সনদ তাদের জীবন রক্ষাকবচ হিসেবে তারা মনে করেন।
জনাব হাফিজের এই ক্ষুব্ধ হওয়ার পেছনে যতটা কারণ আছে বলে মনে করা যায়,তা হচ্ছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশে তাদের সুপারিশগুলোকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এই সনদ মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার চেষ্টা করা হয়েছে, এমন অভিযোগও তারা করছেন। হয়তো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার আবেগকে বড় রকমের ধাক্কা দিয়ে থাকতে পারে এই সনদ। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে হয়তো তিনি এত বড় কথা বলার সাহস পাচ্ছেন।
যে জামায়াতকে বিএনপির সহোদর হিসেবে মনে করা হতো, যে শিবিরকে ছাত্রদলের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে একসময় তাদের নেতা বলেছিলেন, এক মায়ের পেটের দুই ভাই। সেই জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির এই মুহূর্তের সম্পর্ককে শুধু সাপে নেউলে বলে প্রকাশ করার সুযোগ কম। মাত্র কয়েকদিন আগে যেখানে মির্জা ফখরুল সাহেব আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে নিজামী গং এর বিচারকে মিথ্যা মামলা বলে আখ্যায়িত করেছিলেন, সেই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানালেন বিএনপি নেতা মোয়াজ্জম হোসেন আলাল। বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ ও জনাব আলাল দুজনই একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন।
সঙ্গত কারণেই জুলাই সনদকে অপ্রয়োজনীয় বলায় জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মতো দুয়েকটি দল বিএনপির প্রতি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হতে পারে। আবার জামায়াতে ইসলামীর দাবি নভেম্বরেই গণভোট আয়োজনের দাবির প্রচণ্ড বিরোধিতা করায় এবং তাদের নিষিদ্ধ দাবি করায় বিএনপির সঙ্গে শত্রুতার মাত্রা বেড়ে যেতেই পারে।উপসংহারে দেখা যাচ্ছে-বিএনপি ও সমমনা কিছু দল বনাম এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী ও কয়েকটি ক্ষুদ্র দল মুখোমুখি অবস্থানে। নেপথ্যে আওয়ামী লীগ তো আছেই। সেখানে যদি মাজারপন্থীরা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় একজোট হয় তখন দেশে সংঘাতময় পরিস্থিতির উদ্ভব হবে তা অনুমান করা যায়। সব মিলে প্রধান উপদেষ্টা ও তথ্য উপদেষ্টার সতর্কবার্তাকে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ কম।
প্রশ্ন হচ্ছে, এর পরিণতি কী হবে এবং প্রতিকারের উপায় কি? দেশপ্রেম ও জনগণের নিরাপত্তাকে যদি রাজনৈতিক নীতি হিসেবে মান্য করা হয় তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর এই দূরত্ব তাদেরই দূর করতে হবে। আর সাধারণ মানুষের জীবনের ক্ষয়ক্ষতি যদি তারা চায় তাহলে তারা নিজেদের অবস্থানে অনঢ় থাকবে। এখন তাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে,তারা কী চায়।জুলাই সনদ কি অপ্রয়োজনীয়? একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিলো তা কি পুনর্বহাল করা হবে? প্রশ্নগুলোর মীমাংসা তাদেরই করতে হবে। না হলে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হবেই। দায়ও নিতে হবে তাদেরই।
লেখক : সাংবাদিক,শিশুসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়