দেশের রাজনীতি ক্রমেই জটিল রূপ নিচ্ছে। দলের পক্ষে ফায়দা হাসিলের জন্য একে অপরকে নানাভাবে চাপে রাখার কৌশল অবলম্বন করছে। জনসমাবেশ বা শোডাউনের মাধ্যমে শক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাজনীতির মাঠে ফিরে আসার জন্য পতিত স্বৈরাচার ও তাদের দোসররা নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
১৩ নভেম্বর ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে বাসে বা যানবাহনে আগুন দেওয়া, বোমা বিস্ফোরণসহ নানা ধরনের নাশকতা চালানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার হয়েছে। ফলে আগামী নির্বাচন সঠিক সময়ে হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নভেম্বরে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীসহ আট দল গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে জনসমাবেশ করেছে। আগে থেকেই জামায়াত বলে এসেছে, দাবি না মানা হলে রাজধানীর চিত্র পাল্টে যাবে। গতকালের বড় ধরনের সমাবেশ তাদের সেই দাবিকে আরো জোরদার করেছে। বলা হয়েছে, এই সমাবেশে ঢাকা ও আশপাশের লোকজন যোগ দিয়েছে।এতেও কাজ না হলে সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীদের এনে আরো বড় কর্মসূচির দিকে যাবে দলটি। অন্যদিকে বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলোও নিজেদের অবস্থানে অনড়। সোমবার অনুষ্ঠিত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে বলা হয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোটের আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি জুলাই সনদ নিয়ে সময় বেঁধে দেওয়ায় বৈঠকে সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে।জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সমঝোতায় আসার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের এক সপ্তাহের সময় গত সোমবার শেষ হয়েছে।
কিন্তু এই সময়ে দলগুলো কোনো সমঝোতায় আসতে পারেনি। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায় সরকারের। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে মতৈক্যে পৌঁছাতে না পারায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার নিজ থেকেই একটি ‘সিদ্ধান্ত নেবে’ বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক যে সংকট তা এই সরকারই সৃষ্টি করেছে। জুলাই সনদ প্রণয়নকালে সমঝোতার স্বার্থে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (আপত্তি ও ভিন্নমত) গ্রহণ করা হলেও গত ২৮ অক্টোবর সরকারের কাছে হস্তান্তর করা জুলাই সনদে সেই ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রাখা হয়নি। জামায়াত ও এনসিপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ না রাখার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপিসহ বেশির ভাগ দল ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বহাল রাখার পক্ষে। এ অবস্থায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ এবং গণভোটের তারিখ ঘোষিত হলে তা দলগুলো মেনে নেবে কি না যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এই অবস্থায় রাজনীতিবিদরাও হতাশা প্রকাশ করছেন। বলা হচ্ছে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের কথা বলা হলেও মানুষ তা বিশ্বাস করতে পারছে না। কারণ নির্বাচন ভণ্ডুল করার অনেক অপচেষ্টাও দেখা যাচ্ছে।
দেশের অর্থনীতি ধুঁকছে। শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। বেকারত্ব আকাশচুম্বী। সবাই তাকিয়ে আছে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসার দিকে। আমরা আশা করি, রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের প্রত্যাশাকে মূল্যায়ন করবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাবে।

