১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

যশোরে জোড়া শিব মন্দিরের ৬১ শতক জমি উদ্ধারে প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী জোড়া শিব মন্দিরের (রেজিঃ নং-০৮) ৬১ শতক অর্পিত সম্পত্তি উদ্ধার ও ডিক্রী বাস্তবায়নে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সনাতন ধর্ম সংঘের নেতৃবৃন্দ। মুরলীতে অবস্থিত প্রায় ৮৫০ বছরের প্রাচীন এ মন্দির জমি দখল, বিরোধ ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে জেলা প্রশাসকের অনুমতিতে মন্দিরটি সংস্কার করা হয় এবং নিয়মিত পূজা-অর্চনার ব্যবস্থা চালু হয়। পরবর্তীতে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ২০০১ অনুযায়ী সনাতন ধর্ম সংঘের পক্ষে অখিল কুমার চক্রবর্তী মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২০১৬ সালের ৮ জুন রায় এবং ১৫ জুন ডিক্রী মঞ্জুর হয়। পরে ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর শ্রীশ্রী শিব ঠাকুর বিগ্রহের নামে নামজারি সম্পন্ন হয়।
অখিল কুমার চক্রবর্তীসহ অভিযোগকারীরা দাবি করেন, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি পলাতক সাবেক এমপি স্বপন ভট্টাচার্য ও তৎকালীন এসপি আনিছুর রহমানের আশ্রয়ে দিপংকর দাস রতন এবং তপন কুমার ঘোষ মন্দিরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। তাদের দখলে এখনও প্রায় ৫৭ শতক জমি রয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়। এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী মামলা, দুটি মানহানি মামলা এবং মন্দির দখল সংক্রান্ত মামলাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অভিযোগকারীরা আরও জানান, ডিক্রী বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনে অন্তত ১৫ বার আবেদন করা হয়েছে। এমনকি গত ২ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয় থেকেও মন্দির সম্পত্তি কেন বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা “আশাহত ও নিরাপত্তাহীনতা” অনুভব করছেন। তাদের অভিযোগ, মন্দির এলাকায় প্রবেশ করতে গেলেও দিপংকর দাস রতন ও সঞ্জয় জোয়াদ্দারের নির্দেশে বাধা দেওয়া হয়। কয়েকবার পুলিশের সহায়তায় মারধর ও অপমানিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা। এছাড়া বর্তমান কেয়ারটেকারও বন্যপ্রাণী পাচার মামলার আসামি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, একই গোষ্ঠী জেলার আরও বেশ কয়েকটি আয়সম্পন্ন মন্দির ভিন্ন সময়ে দখল করেছে এবং মন্দির পরিচালনার নামে সুবিধা ভোগ করে কোটিপতি বনে গেছে, অথচ মন্দিরের উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখেনি।
মন্দিরের জমি উদ্ধার, আদালতের ডিক্রী বাস্তবায়ন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা-অর্চনার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মন্দির সংশ্লিষ্টরা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়