গত শুক্রবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৭। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্প হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদীতে।
গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভূমিকম্পের কারণে মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছে ছয় শতাধিক। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বংশালের কসাইটুলীতে তিনজন, মুগদায় একজন, নরসিংদীতে পাঁচজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজন।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। দেশের ভূমিকম্পবিষয়ক গবেষকরা বলছেন, এটিই দেশে স্মরণকালের সবচেয়ে তীব্র ঝাঁকুনিসম্পন্ন ভূমিকম্প।বিশেষজ্ঞরা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা বা বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন। ঢাকা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্পে ঢাকায় ১৪টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জেও বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু মাটির ঘর ভেঙে পড়েছে।
ভূমিকম্পে পলাশ উপজেলায় অবস্থিত ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এক শোকবার্তায় তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন, শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। এ ছাড়া শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। তাঁদের মতে, ঢাকায় ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হলে লাখখানেক ভবন ধসে পড়বে। এর প্রধান কারণ রাজধানীতে থাকা ভবনগুলোর একটি বড় অংশই ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মেনে হয়নি এবং ভূমিকম্প সহনশীল নয়। তাই ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কয়েক লাখ মানুষ প্রাণ হারাতে পারে। তা ছাড়া যেভাবে বিদ্যুতের তার ও গ্যাসের লাইন শহরজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে, তাতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে এবং আগুনে পুড়ে বহু মানুষ মারা যেতে পারে। এমন অনেক গলি-ঘুপচি রয়েছে, যেখানে উদ্ধারকারী যন্ত্রপাতি পৌঁছানো যাবে না। উদ্ধারকারী যন্ত্রপাতিরও অভাব রয়েছে। ফলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে যে ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হবে, তাতে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করতে শত শত বছর লেগে যেতে পারে। শহরকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার প্রয়োজন হতে পারে।
অতীতে দেখা গেছে, ভূমিকম্প কিংবা ঝড়-তুফান ছাড়াই অনেক ভবন ধসে পড়ে বা হেলে পড়ে। এর জন্য দায়ী নির্মাণত্রুটি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সময় এসেছে দ্রুত ভবনের নির্মাণত্রুটি শনাক্ত করার এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে যেসব ভবন ভূমিকম্প সহনশীল নয়, সেসব ভবনকে ভূমিকম্প সহনশীল করে গড়ে তোলার। তা ছাড়া দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি ইমারত নির্মাণ বিধিমালা না মেনে যাতে আর কোনো ভবন নির্মিত না হতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

